চাঁদপুর ও আশপাশের এলাকায় শিশুরা ব্যাপক হারে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত ২৭ দিনে (১-২৭ ডিসেম্বর) এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৭০৬টি। প্রতিদিন গড়ে ১০০-এর বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) মতলব শাখার রোগী ভর্তির বই সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে ওই ২৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে তিন হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০৬ জনই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বাকি ৪০৬ রোগীর বয়স পাঁচ বছরের ঊর্ধ্বে। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১১৫ জন। এদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি শিশু। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণেরও বেশি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয় ৪৫-৪৬ শিশু। গতকাল রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত ৪০টি শিশু এ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
সরেজমিনে গত রোববার আইসিডিডিআরবির মতলব শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। তিল ধারণের জায়গা নেই। রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
কচুয়া উপজেলার পনসাহী গ্রাম থেকে আসা এক বছরের শিশু ইসরাত আক্তারের মা সাবিনা ইয়াছমিন বলেন, ‘মাইয়াডা ঘন ঘন বমি ও পাতলা পায়খানা করতাছিল। এলিগা গত শুক্রবার এনো আনছি। ওরস্যালাইন, বেবি জিংক দিছে। এহন কিছুডা বালা।’
আইসিডিডিআরবি মতলব শাখার জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর দাস বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম। কয়েক দিনের তীব্র শীতে শিশুরা ব্যাপক হারে এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগে আক্রান্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ওরস্যালাইন, বেবি জিংক, মায়ের বুকের দুধ, সুজি, খিচুড়ি, পাকা কলা, ভাতের মাড়, ডাব, চিড়ার পানি খেতে দেওয়া হচ্ছে। এক থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে ওরস্যালাইন ও মায়ের বুকের দুধ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন