নাটোরে অবৈধ সংগঠনের নামে অটোবাইকচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও হয়রানির প্রতিবাদে অটোবাইকের মালিক ও চালকেরা গতকাল রোববার সদর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অটোবাইক থেকে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে দুপুর ১২টার দিকে শহরের হাফরাস্তা থেকে অটোবাইকের মালিক ও চালকেরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর থানা ঘেরাও করে। সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় একটি চক্র ‘সদর থানা অটোবাইক মালিক সমিতি’ নামে একটি অবৈধ সংগঠন গড়ে তোলে। এই সংগঠনের নামে শহরে চলাচলকারী অটোবাইকের মালিক ও চালকদের তালিকাভুক্ত করার কথা বলে তিন হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাইরে থেকে যেসব অটোবাইক শহরে আসে, সেগুলো থেকে প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে চালকদের চাবি কেড়ে নেওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। ওই সংগঠনের চাপে চালকেরা সম্প্রতি শহরে ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন। বাড়তি ভাড়া থেকে চাঁদার টাকা পরিশোধ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকজন অটোবাইকচালক বলেন, আদায় করা টাকা দিয়ে মালিক-চালক কারোরই এখন পর্যন্ত কল্যাণ সাধন করা হয়নি। অথচ তাঁদের কল্যাণের কথা বলেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। শহরের সাতটি সড়কের মোড় থেকে এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি হলেও প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অটোবাইকের চালক ও মালিক মজিদ হোসেন বলেন, আগে শহরের সাতটি মোড়ে চিরকুটের মাধ্যমে সংগঠনটির নামে পাঁচ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছিল। ১ মার্চ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
সদর থানা অটোবাইক মালিক সমিতির সভাপতি নান্নু শেখ বলেন, যানজট নিরসন ও চালকদের কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে কিছু টাকা তোলা হয়। এটাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। কমিটির পক্ষ থেকে আগে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করা হতো। পুলিশ সুপার নিষেধ করায় এখন নির্দিষ্ট জায়গায় বসে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সংগঠনের আইনগত বৈধতা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নেই। তবে ভবিষ্যতে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম বলেন, সংগঠন পরিচালনার খরচ মেটানোর জন্যই প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। শহরের হাফরাস্তা এলাকার বিএনপির কর্মী মিলন হোসেন এই টাকার ভাগ না পেয়ে ধান কাটার শ্রমিকদের নিয়ে গতকাল বিক্ষোভ করিয়েছেন। এর সঙ্গে সাধারণ অটোবাইকের চালক ও মালিকেরা ছিলেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিলন বলেন, তিনি নিজেও একজন মালিক ও চালক। সবার স্বার্থেই এই বিক্ষোভ করা হয়েছে।
পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি উমা চৌধুরী বলেন, অবৈধভাবে সংগঠনটি চাঁদা তুলছে। চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে প্রায় ৫০০ চালক তাঁর কাছে আবেদন করেছেন। তিনি শিগগিরই শহরে মাইকিং করে চাঁদা আদায় বন্ধের আহ্বান জানাবেন। বিষয়টি জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানেও চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ চালক ও মালিকদের কাছ থেকে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন