যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি এটা ঠিক বলতে পারব না। ওরা তো আপনাদের পত্রিকা দেখে, মিডিয়া থেকে কিছু তথ্য পায়। আর কিছু এনজিও টেনজিওরা ওদের বলে। এনজিওরা বাংলাদেশ সব সময় খারাপ এটা বলে। আরেক দল আছে তারা বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চায়। তারা তো খারাপ চিত্র দিলে খুব খুশি হয়। তারা এগুলো তৈরি করে। আর আমাদের অনেক বাঙালি আমেরিকান এম্বাসিতে চাকরি করেন। তাঁরা ইনিশিয়াল ড্রাফটা তৈরি করেন। উনারা খালি খুঁজে থাকেন কোথায় দোষ। আমাদের বাঙালি স্বভাব হচ্ছে দোষ খুঁজে বের করা। দেখেন দুনিয়ার সব দেশে অসুবিধা হয়। দোষটা খালি বাংলাদেশে দেখবেন। অন্য জায়গায় দোষ আর দেখেন না।’

যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেশে কোথাও কথা বলার অধিকার কেউ হরণ করেনি। আমি তোমার দেশে ( যুক্তরাষ্ট্রে) আগেভাগে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করতে পারি না। ফ্রিডম মাস্ট বি রেগুলেটেড। না থাকলে নৈরাজ্য হবে। আমাদের আইনকানুন আমরা আমাদের বুদ্ধিতে করি। দুর্বলতা থাকলে তোমার সঙ্গে কাজ করতে তৈরি আছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের সঙ্গে তুলনা করলে ডিএসএ (ডিজিটাল সিকিউরিট অ্যাক্ট) তো শান্তির।’

ওয়াশিংটন সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার কথা তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে আমরা সব দলকেই চাই। সব দল মোটামুটি আসে। কিন্তু একটা বড় দল আছে, জনসমক্ষে বলে তারা নির্বাচন করবে না। কেউ যদি ইচ্ছা করে করতে না চায়, তারা পাবলিককে ভয় পায়। তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসেনি। সেনানিবাসে তাদের জন্ম। তারা ওই ধরনের জিনিসই আশা করে। তাদের আমরা আনতে পারি না। আপনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) চাইলে নিয়ে আসেন। ওরা যদি না আসে তাহলে তো আপনার (বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) কিছু করার নেই, এটা তিনি বললেন।

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ধরনা দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এটা কথার মধ্যে কথা বলার মতো। কথা প্রসঙ্গে বলেছি, তাদের আনতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছি। তখন বলেছি, পারলে নিয়ে আসেন। আমরা এটা কোনো প্রস্তাব আকারে দিইনি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন