বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পিবিআই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান বাবুলের দুই সন্তানকে শিশু আইন মেনে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এক আদেশে বাবুলের দুই শিশুসন্তানকে ১৫ দিনের মধ্যে পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান রিভিশন (আদেশটি পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতে। আদালত তা খারিজ করে দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন বাবুলের ভাই গত ৩০ মার্চ। এটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

বাবুলের পরিবার কি চায় না, মাহমুদার খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন হোক। প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক। তাহলে তাঁরা কেন অসহযোগিতা করছেন।
আবু জাফর মুহাম্মদ ওমর ফারুক, পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক

শিশু দুটি বর্তমানে দাদা আবদুল ওয়াদুদ ও বাবুলের বর্তমান স্ত্রী ইশমত জাহানের তত্ত্বাবধানে মাগুরার বাসায় বসবাস করছে।

চট্টগ্রামে কর্মরত থাকাকালে বাবুল স্ত্রী মাহমুদা ও দুই সন্তানকে নিয়ে নগরের ওআর নিজাম রোডের একটি বাসায় থাকতেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক আবু জাফর মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিল বাবুলের ছেলে। ছোট মেয়েও সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। আলোচিত এ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য দুজনের সঙ্গে কথা বলা খুবই প্রয়োজন।

পিবিআই মাগুরা এসে দুই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
হাবিবুর রহমান, বাবুলের ভাই

ওমর ফারুক বলেন, এই দম্পতির দুই সন্তানকে পিবিআই কার্যালয়ে আনার জন্য বাবুলের বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁরা সাড়া দেননি। তাই আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত আদেশ দিলেও নানা অজুহাতে বাবুলের পরিবার কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবুলের পরিবার কি চায় না, মাহমুদার খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন হোক। প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক। তাহলে তাঁরা কেন অসহযোগিতা করছেন।’

পিবিআই বলছে, এখন পর্যন্ত তদন্তে যা পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, মাহমুদাকে খুন করতে হত্যাকারীরা প্রথমে তাঁকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা মারেন। তিনি পড়ে যাওয়ার পর তাঁরা তাঁকে কোপান ও গুলি করেন। মাহমুদাকে যখন কোপানো হচ্ছিল, তখন তাঁর সাত বছরের ছেলে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা তাকে (ছেলে) ধরে রেখেছিলেন।

মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাদী হয়ে যে মামলা করেন, সেই মামলায় মো. ওয়াসিম ও মো. আনোয়ার নামের দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দিতেও এ বিবরণ আছে বলে জানায় পিবিআই। জবানবন্দিতে তাঁরা কামরুল ইসলাম শিকদারের নির্দেশে মাহমুদাকে খুন করার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই বলছে, গত বছরের ২৩ অক্টোবর এহতেশামুল হক ওরফে ভোলার দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে, বাবুলের নির্দেশে কামরুল শিকদার মাহমুদাকে খুন করেন।

নির্দেশ অনুসারে কাজ না করলে কামরুলকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বাবুল। কামরুল ঘটনার পর থেকে ‘নিখোঁজ’। অবশ্য কামরুলের স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি, তাঁকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তারপর থেকে তাঁর আর খোঁজ পাচ্ছেন না তাঁরা।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল চট্টগ্রামের জিইসি মোড়। কীভাবে খুন হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ঘটনাস্থলে জানতে হবে। এটি মাগুরায় গিয়ে করা সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই ছেলেকে নিয়ে কেন পিবিআই টানাটানি করছে। তারা মুছাকে খুঁজে এখনো বের করতে পারেনি। তাঁকে ধরে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করুক। বাবুলের দুই ছেলে শিশু হওয়ায় তারা যাতে হেনস্তার শিকার না হয়, সে জন্য নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গিয়েছি। পিবিআই মাগুরা এসে দুই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

মাহমুদার বাবা মোশাররফ হোসেন চান তাঁর মেয়ে খুনের রহস্য উন্মোচন হোক। তাঁর দুই নাতি–নাতনির কাছ থেকে পাওয়া কোনো তথ্য তদন্তে কাজে এলে বাবুলের পরিবার কেন অসহযোগিতা করছে, প্রশ্ন রেখে এতে রহস্য আছে অভিযোগ এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার।

মাহমুদা হত্যার পরদিন ২০১৬ সালের ৬ জুন তাঁর স্বামী বাবুল বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই এই মামলায় গত বছরের ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। একই দিন বাবুলের শ্বশুর ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করা হয়। মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে ৬ মার্চ আদালত তা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে বাবুল আক্তারের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করেননি। আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৩ নভেম্বর থেকে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন