default-image

প্রথম আলো পরিবারের বড় শক্তি পাঠক। করোনাকালে পাঠক পত্রিকাটি ছেড়ে যায়নি। কিছু দিন ছাপা পত্রিকা হাতে পাওয়া কষ্টসাধ্য হলেও পাঠক প্রথম আলো অনলাইনের সঙ্গে ছিলেন। অনলাইনের বিভিন্ন প্রতিবেদন পাঠকের মধ্যে সাড়া ফেলে।

ফাহমিদার পরিবারের পাশে মেয়র

কলেজপড়ুয়া ফাহমিদা পাঠান করোনায় বাবাকে হারায় মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। তার বাবা জাকির হোসেন পাঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকে শুরু হয় ফাহমিদার পরিবারের দুর্ভোগ।

দুই বছর বয়সী ভাই ছাড়া ফাহমিদা নিজে, মা, ও অন্য ভাইবোনেরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিল। গত ২০ মে অন্যরা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও ফাহমিদার সুস্থ হতে বেশ সময় লাগে।

পরিবারটি চলবে কীভাবে?’ শিরোনামে এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলো অনলাইনে আসে ১২ মে। এরপর ফাহমিদা পরিবারের গল্পটি একটু একটু করে পাল্টাতে থাকে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই বিষয়টি নজরে আসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের। তিনি সরাসরি প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি একজন পাঠক হিসেবেই প্রতিবেদনটি পড়েছিলেন। তারপর জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। মেয়রের পাশাপাশি একাধিক পাঠক পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।

বিজ্ঞাপন

‘সেই পরিবারের পাশে আতিকুল ইসলাম’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদনও অনলাইনে আসে ১২ মে।

ফাহমিদা জানিয়েছে, মেয়র আতিকুল ইসলাম দুই মাসের বাড়ি ভাড়া, হাসপাতাল থেকে মাসহ অন্যদের বাড়ি ফিরতে সহায়তা করাসহ বিভিন্নভাবে পাশে ছিলেন। যতদিন প্রয়োজন সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মেয়র। ফাহমিদা বলেন, ‘প্রথম আলো খবরটি প্রকাশ না করলে এত মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারতেন না। আর মেয়রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।’

৭২ প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী শিশুর মুখে হাসি

গত ১৪ এপ্রিল প্রথম আলো অনলাইনে ‘৭২ প্রবীণ–শিশুকে প্রতিদিন খাবার দেওয়াটাই কঠিন হচ্ছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রবীণ ও শিশুরা রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’–এর বাসিন্দা। অভিভাবকহীন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী শিশুসহ ৭২ জনকে প্রতিদিন খাবার দেওয়াই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। অনেকে ভুলেও গিয়েছিলেন এই প্রবীণদের, ফলে ত্রাণ বা সহায়তার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছিলেন এই প্রবীণেরা।

default-image

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া অলাভজনক এবং একক ব্যক্তি উদ্যোগে গঠিত এ আশ্রয়কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী ও তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিল্টন সমাদ্দার। প্রতিষ্ঠানটি তত্ত্বাবধানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন তাঁর স্ত্রী মিঠু হালদার। প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে মিল্টন প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই যাচ্ছেন। ভিডিও–বার্তায়ও তিনি প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মিল্টন সমাদ্দার গত ২৭ মে যে হিসাব দিয়েছিলেন সে অনুযায়ী, প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২৭ মে পর্যন্ত প্রায় নয় লাখ টাকা নগদ সহায়তা পেয়েছিলেন। এর বাইরে প্রবীণদের শাড়ি, লুঙ্গি, মেক্সি, ওষুধ যা পেয়েছিলেন তা দিয়ে কয়েক মাস চোখ বন্ধ করে চলে যাবে। চাল, ডালসহ অন্যান্য খাবার পেয়েছেন প্রচুর। মিল্টন হাসতে হাসতে বললেন, ‘প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে আমাদের ফেসবুকের পেজভিউ এক লাফে ২০ লাখে পৌঁছেছিল তখন।’

চাল–ডাল দিয়ে শুরু, এখন ডিম-খিচুড়ি

শিরোনাম ছিল ‘চাল ডাল আলু দিয়ে শুরু, এখন ডিম-খিচুড়ি’ । গত ৮ মে প্রকাশিত হয় প্রথম আলো অনলাইনে। গল্পটা ছিল এমন, শুরুটা হয়েছিল ২৪ মার্চ। ‘৪৫০ টাকায় এক সপ্তাহ’ শিরোনামে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কার্যক্রমটির শুরু করেছিলেন তরুণ পেশাজীবী ফেরদৌস আহমেদ (উজ্জ্বল)। তবে পবিত্র রমজান শুরুর পর সরাসরি পণ্যসামগ্রী সহায়তা কমিয়ে রাজধানীর নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে এক বেলা রান্না করা ডিম-খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। শুরুতে ৫০ প্যাকেট, এখন ২০০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাবার নেওয়ার তালিকাটাও দিন দিন বড় হচ্ছে। ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন (শুভ), সামজির আলম (আরিয়ান), বাবুর্চি সোহেল হোসেনসহ অনেকে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক ৪ নম্বরে সাজ্জাদ হোসেনের বাসা। এই স্বেচ্ছাসেবক ডিম আর সবজি খিচুড়ি রান্নার জন্য নিজের বাড়িটাই দিয়ে দিয়েছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর তরুণ ফেরদৌস ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘টাকার অভাবে আমরা যখন দিশেহারা, তখন প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিকাশ এবং অন্যান্য মাধ্যমেও সাহায্য পেয়েছি। এক সময় রান্না করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক পাওয়াই কঠিন হয়ে যায়। ঈদ পর্যন্ত আমরা রান্না করা খাবার দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের কারণে।’

থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশনের শিশুদের মুখে হাসি

শাফি-রাফিরা তাকিয়ে আছে আপনার দিকে’ । এই শিরোনামে প্রতিবেদনটি আসে গত ১৩ মে প্রথম আলো অনলাইনে। প্রতি বছর ঈদের আগে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা প্রথম আলোর প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকেন। এবারও প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম বলছিলেন, খবরটি প্রকাশের পর ফাউন্ডেশনের শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর কাজটি বরাবরের মতো এবারও সহজ হয়ে যায়।

পুরোপুরি সমাধান না হলেও মা কিছুটা নিস্তার পেয়েছেন

বিজ্ঞাপন

শিশু কোলেই সবার পাশে ছুটে যাচ্ছেন যে মা’ শিরোনামে প্রথম আলো অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত ২২ এপ্রিল।

হালিমা আহমেদ খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরির্দশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। করোনার বিস্তারে দেশে খাদ্য সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অনেক অসহায় মানুষ। দরিদ্র মানুষ সরকারের কম মূল্যের চাল–ডাল পাচ্ছে কি না, বাজার পরিস্থিতি, নির্ধারিত সময়ের পর দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে কি না, এ ধরনের অনেক কাজ করতে হচ্ছে খাদ্য পরিদর্শকদের। হালিমা আহমেদও করেছেন। সমস্যা ছিল, আড়াই বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে। এই সময়ে তাকে বাসায় রেখে আসারও উপায় ছিল না। কে দেখবে? অন্যদিকে সন্তান নিয়ে বের হয়েও সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হচ্ছিল তাঁকে।

এই মা হালিমা আহমেদ তখন টেলিফোনে বলেন, ‘আমার সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি, তবে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আচরণে বেশ পরিবর্তন এসেছিল। আমার প্রতি সদয় হন ও মানবিক আচরণ করেন। আমি আমার সমস্যার কথা এর আগে কর্তৃপক্ষকে অনেক বার বলেছিলাম, লাভ হয়নি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে অনেকটাই নিস্তার পাই। ধন্যবাদ প্রথম আলো।’

মন্তব্য পড়ুন 0