default-image

প্রথম আলোকে আরও এগিয়ে নিতে সংবাদপত্রের এজেন্টরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গত সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত প্রথম আলোর এজেন্ট সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তাঁরা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘এজেন্ট ও হকার প্রথম আলোর প্রথম বন্ধু’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এজেন্ট ও হকাররা কীভাবে বিপুল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রথম আলোকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন, তা তুলে ধরা হয় এই তথ্যচিত্রে।

default-image

গত কয়েক বছরে প্রথম আলোর যেসব এজেন্ট মারা গেছেন, তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁরা হলেন টাঙ্গাইলের নলুয়ার মফিজুর রহমান, ফরিদপুরের নগরকান্দার সুশান্ত দাস, চট্টগ্রাম চন্দনাইশের আবদুস সাত্তার, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের মাসুদুর রহমান, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মো. সেলিম রেজা, ঈশ্বরদীর কোরবান আলী, কুমিল্লার রণজিৎ চন্দ্র দাশ ও মন্টু চন্দ্র দাশ, ঝিনাইদহ কোট চাঁদপুরের মাহাবুব আলম ও সিলেটের জকিগঞ্জের মাসুক আহম্মেদ।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এজেন্টদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সৎ ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করছি। আমরা আমাদের পত্রিকার মাধ্যমে পাঠক কী চান, তা তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রথম আলো পাঠকের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এখনো প্রথম স্থানেই আছে।’ পত্রিকার আরও পাঠক বৃদ্ধির জন্য তিনি এজেন্টদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যশোরের ইজাহার আলী বলেন, ‘আমরা প্রথম আলো ছাড়া আরও কয়েকটি পত্রিকার এজেন্ট হিসেবে কাজ করি। কিন্তু প্রথম আলো থেকে আমাদের যেমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা অন্য কোনো পত্রিকা থেকে দেওয়া হয় না।’ এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
বগুড়ার আবদুল মতিন বলেন, ‘বগুড়ায় প্রেস থাকার কারণে ওই এলাকার মানুষ দ্রুত প্রথম আলো পাচ্ছেন। এতে আমরা যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনি এলাকার মানুষও দ্রুত খবর পাচ্ছেন। এ জন্য প্রথম আলোর পাঠকও সেখানে বাড়ছে।’
এজেন্টদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন সিলেটের সিরাজুল ইসলাম ও সিকান্দর আলী, কুলাউড়ার মহসিন আহম্মেদ, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ওবায়দুল আলম, মাদারীপুরের ওমর আলী, পার্বতীপুরের আবদুল কাদির, বরিশালের হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘আপনাদের ছাড়া আমরা পত্রিকা চিন্তাই করতে পারি না। আপনারা শুধু আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদারই নন, এর চেয়ে বেশি।’
সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, এখন কোটি কোটি ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এরাই হবে আগামী দিনের প্রথম আলোর পাঠক। এদের জন্য প্রথম আলো নিয়মিত ‘কিশোর আলো’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা বের করছে। এটি আরও বেশি বেশি স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা পড়লে তাদের মধ্যে বইয়ের বাইরে পাঠের অভ্যাস বাড়বে।
সার্কুলেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম জাকারিয়া এজেন্টদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন। এজেন্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধান বার্তা সম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি।
পত্রিকাটির সঙ্গে শুরু থেকে আছেন, এমন ২০ জন এজেন্টকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩০ জন সেরা এজেন্টকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সালমা ও পুলক। কৌতুক পরিবেশন করেন মীরাক্কেল তারকা শশী।
অনুষ্ঠানে র্যা ফল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম পুরস্কার ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন পান দিনাজপুরের ফুলবাড়ির আবেদ আলী, দ্বিতীয় পুরস্কার ২৪ ইঞ্চি টেলিভিশন পেয়েছেন কুমিল্লার আবুল কালাম আজাদ এবং তৃতীয় পুরস্কার একটি করে মুঠোফোন পান শ্রীমঙ্গলের মজিবর রহমান, টাঙ্গাইলের মোতাহার আলী ও সাতক্ষীরার মনিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন