তোফাজ্জেল হোসেন আরও জানান, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে আরও ৬৫ হাজার ৬৭৪টি একক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে বাড়িগুলোকে আরও টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল করতে সরকার খরচ বাড়িয়েছে এবং নকশায় পরিবর্তন এনেছে। এখন ভূমি ও গৃহহীনেরা ২ দশমিক ২ শতাংশ জমিসহ উন্নত মানের আবাস পাবেন।

তিনি বলেন, বাড়িগুলোকে আরও টেকসই ও দর্শনীয় করতে প্রতিটি বাড়ির জন্য খরচ ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। বাড়িগুলোকে আরও টেকসই করার জন্য সরকার শক্তিশালী গ্রেট-বিম, লিন্টেল ও রিইনফোর্সড কংক্রিট কলাম (আরসিসি) পিলারবিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করছে।

পিএমওর জ্যেষ্ঠ সচিব আরও জানান, প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি একক বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ২০২১-২২ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩টি বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তৃতীয় ধাপের আওতায় চরাঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রায় ১ হাজার ২৪২টি বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় রেখে ঘরগুলো যাতে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা যায়, সে জন্য বিশেষ নকশা করা হয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারণা অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে আবাসন কার্যক্রমের একটি বিশেষ সংযোগ রয়েছে। বিভিন্ন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একক বাড়ি নির্মাণ প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন ১৯৯৭ সাল থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৮ হাজার ৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ১৫ জন (একটি পরিবারে আনুমানিক পাঁচজন ব্যক্তি হিসাবে)।

এতে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন