default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে এমফিলের দুই শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ছাড়াই পরীক্ষা নিয়েছেন শিক্ষকেরা। গত ডিসেম্বরে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। ১১ মাস পর এখন ওই দুই পরীক্ষার্থীর ‘ফলাফল প্রকাশের সুবিধার্থে’ প্রবেশপত্র সরবরাহের জন্য চিঠি দেওয়া হয় ডিনস কমিটিকে। তবে একাডেমিক রীতিনীতির পরিপন্থী হওয়ায় প্রবেশপত্র দেয়নি ডিনস কমিটি।

বিভাগটির নাম অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ (ওএসএল)। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত। অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মুহাম্মাদ আবদুল মঈনের মাধ্যমে বিভাগটির বর্তমান চেয়ারম্যান আলতাফ জলিল সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির কাছে এমফিলের দুই শিক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র সরবরাহের জন্য চিঠি দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় আজ বৃহস্পতিবার। সভার আলোচ্যসূচিতে ওএসএল বিভাগ থেকে পাঠানো ওই চিঠির প্রসঙ্গটি ছিল।

আলোচ্যসূচিতে লেখা ছিল, ‘চিঠিতে অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগটি নতুন। প্রথম ব্যাচে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল কোর্সে দুজন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। অনুমোদিত কোর্স-কারিকুলাম নিয়ে ক্লাস শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। কোর্সগুলোর ক্লাস শেষ করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সান্ধ্য এমবিএ কোর্সের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের (দুই শিক্ষার্থী) পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আলোচ্যসূচিতে আরও লেখা হয়, ফলাফল প্রকাশের সুবিধার্থে দুই শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র সরবরাহ করার জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান অনুরোধ করেছেন। অনুষদের ডিন চিঠিটি পাঠিয়েছেন। ওই দুই পরীক্ষার্থী এমফিল প্রথম পর্বের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পরীক্ষার তারিখ না পাওয়ায় প্রবেশপত্র সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, ডিনস কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ায় উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বেশ শক্ত ভাষায় আপত্তি তোলেন। সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তোফায়েল আহমদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকও এর বিরোধিতা করেন। পরে প্রবেশপত্র সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়নি; বরং কীভাবে পরীক্ষাটি নেওয়া হলো, তা অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়কে খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া একাডেমিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাই প্রবেশপত্র সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগে এমফিলের ক্লাস সান্ধ্য প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন মুহাম্মাদ আবদুল মঈন এর আগে গত ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ও একাডেমিক কাউন্সিলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্য কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যদিও শেষ মুহূর্তে উপাচার্যের অনুরোধে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে জানতে গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে কল করা হলে অধ্যাপক মঈন বিষয়টি শোনার পর বলেন, তিনি মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার দেন না। তিনি এই প্রতিবেদককে দেখা করে কথা বলতে বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ফোন করা হলে তিনি আর ধরেননি। অন্যদিকে অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের চেয়ারম্যান আলতাফ জলিলের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মানের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করব না। নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন