রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি (পলিটিক্যাল এক্সপোসড পারসন-পেপ) ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধের মূল প্রজ্ঞাপনে একইভাবে তাঁদের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এক ব্যবস্থা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফআইইউ) থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে গতকাল রোববার এ প্রজ্ঞাপনটি পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে পরিচিত বলতে এফআইইউ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, জ্যেষ্ঠ সরকারি আমলা, বিচার বিভাগ ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী ও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বুঝিয়েছে।
এসব ব্যাক্তির কোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুমোদন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাঁদের অর্থ বা সম্পদের উৎস জানার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে ও তাদের লেনদেন নিয়মিতভাবে তদারকি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, দুটি কারণে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যাংক লেনদেনকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেমন দেশের সাম্প্রতিক ব্যাংক খাতে বড় অনিয়ম ও মানিলন্ডারিং ঘটনা প্রভাবশালীদের দিয়ে সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক নির্দেশনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশনার ক্ষেত্রে এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পাওয়ার পর আগামী ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন কাজে প্রতিরোধ আইন, বিধান কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা যাচাই করা হবে।
আবার প্রজ্ঞাপনে আর্ন্তজাতিক সংস্থার প্রধান বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য ও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিতদের ক্ষেত্রেও একইভাবে যাচাই-বাছাই করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে তদারকিও জোরদার করার নির্দেশনা রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সেবা প্রধানকারী সংস্থাকে (ব্যাংক নয়) সরাসরি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন আকারে এফআইইউতে পাঠাতে হবে। একইভাবে এজেন্ট বা ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসাবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে তাদের ক্ষেত্রে একইভাবে সরাসরি এফআইইউতে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত মোবাইল ব্যাকিং সেবায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন ঝুঁকি পরিপালনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দায়দায়িত্ব নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি নিরসনে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, তবে ব্যাংককে তার কার্যক্রমের পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন বিষয়ের দায়ভারও ব্যাংকের ওপর বর্তাবে।
গ্রাহক নির্বাচন বিষয়ে বলা হয়েছে, বেনামে বা ছদ্মনামে বা শুধু নম্বরযুক্ত কোনো গ্রাহকের হিসাব খোলা যাবে না। ‘শেল ব্যাংক’-এর সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। শেল ব্যাংক বলতে ব্যাংকটি যে দেশে নিবন্ধিত কিন্তু সে দেশে কোনো শাখা বা কার্যক্রম নেই—এমন ব্যাংককে বোঝানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন