অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের জন্য তিনটি আবাসিক হলে আসন ১ হাজার ৪২টি।

একাধিক ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরপরই হলগুলো ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সে সময় সংগঠনের ছয়টি গ্রুপের নেতারা সমঝোতার ভিত্তিতে হলের আসনগুলো ভাগাভাগি করে নেন। গ্রুপগুলোর নেতৃস্থানীয়রা পড়াশোনা শেষে চলে গেলেও তাঁদের গ্রুপের পরবর্তী নেতারা আসন নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।

তবে শাহ পরান হলের প্রাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ শাহ আরেফিন নোবেল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রনেতারা নন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই ছাত্রদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে আসন বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

গত ১৬ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের ৮০% সিট ছাত্রলীগের দখলে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ছয় মাস পর গত রোববার আবার সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্রই পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ছাত্রদের তিনটি হলের ৮২২টি আসন ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ১২০টি; সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক সজিবুর রহমান গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ১৮০টি; ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আশরাফ কামাল নিয়ন্ত্রিত ‘কাশ্মীর গ্রুপের’ ১৩০টি এবং ছাত্রলীগের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহসভাপতি মামুন শাহ গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ১৪৮টি আসন রয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা সুমন সরকার ও তারেক হালিমী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ৭৬টি আসন, ছাত্রলীগের রসায়ন বিভাগ শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান (স্বাধীন) ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা সম্পাদক রুবেল ফারহানের নিয়ন্ত্রণে আছে ১৬৮টি আসন।

তাঁদের মধ্যে খলিলুর রহমান, সজিবুর রহমান, আশরাফ কামাল,

মামুন শাহ, তারেক হালিমী ও মেহেদী হাসানের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা দাবি করেন, বৈধভাবেই শিক্ষার্থীরা হলে ওঠেন। হলে ওঠার পরই তাঁরা ছাত্রলীগ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছাত্ররাজনীতিতে জড়ান।

মেহেদী হাসান দাবি করেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজ থেকে মিছিল–মিটিংয়ে আসেন। কাউকে জোর করা হয় না।’ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের অপর এক নেতা বলেন, ‘কোন গ্রুপের কতটি আসন থাকবে, সেটি অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে। কোন গ্রুপ কতটা আসন পাবে, সেটা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’

ছাত্রলীগের বাইরেও কয়েকটি সংগঠন কিছু আসন নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাতীয় ছাত্রদল (এনডিএফ), তাবলিগের দুটি পক্ষ, ছাত্র মজলিস, তালামীয এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিকের নিয়ন্ত্রণে আছে ১৬৬টি আসন। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে ৫৪টি আসনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন