default-image

শাহনাজ আক্তারের বাবা নেই। মা গৃহকর্মী। মায়ের কষ্ট ঘোচাতে নিজে কিছু করতে চায়। আর সেই করতে চাওয়া থেকে আজাদ মুসলিম মহিলা পরিষদে সেলাই প্রশিক্ষণ নেয়। গতকাল শনিবার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে কথা হয় শাহনাজের সঙ্গে।
আজাদ মুসলিম মহিলা পরিষদ আয়োজিত পুরান ঢাকার লালবাগে আজাদ মুসলিম পাবলিক লাইব্রেবির কক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সনদ ও সেলাই মেশিন প্রদান অনুষ্ঠান হয়।
প্রতিবছর জাকাতের অর্থ দিয়ে গরিব ও দুস্থ নারীদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নামমাত্র মাসিক ভাতায় এ প্রশিক্ষণ দেয় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন। তবে এ বছর প্রতিষ্ঠানের অর্থ দিয়ে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সাহায্য করছে সংগঠনটি। তেমন একজন তিন সন্তানের জননী শান্তি রানী।
শান্তি রানীর স্বামী জুতার দোকানে কাজ করেন। তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল নিজের একটা মেশিন হবে, যা দিয়ে টাকা আয় করতে পারব।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সেলাই মেশিন তুলে দেন।
শায়লা পারভীনের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা থেকেই প্রথম আলোর পথচলা। এমন ভালো কাজের সঙ্গে প্রথম আলো সব সময় থাকবে। এ সময় তিনি এক লাখ টাকা অনুদান দেন আজাদ মুসলিম মহিলা পরিষদে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পপতি আলাউদ্দিন মালিক এবং পরিষদের সহসভাপতি ফয়েজুর রহমান।
প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক শায়লা পারভীন জানান, কাটিং, এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক, হস্তশিল্প, রান্না ও পারলারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এক বছরের এই প্রশিক্ষণ শেষে মোট ১৯৩ জনকে সনদ ও ৩৮ জনকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পুরান ঢাকার নারীদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রতিষ্ঠাতা নাসির হোসেন। আর সেই ১৯৪৩ থেকে এই প্রতিষ্ঠান সমাজের দুস্থদের সাহায্যে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন