বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাছিমা বেগম বলেন, টেকনাফের একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই কমিশন সে জায়গা থেকে সরে এসেছে।’ গণমাধ্যমকর্মীরা তখন জানান, এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তখন কমিশনের চেয়ারম্যান তাঁর কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে কে যেন বললেন যে মামলা হয়েছে?’ এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা চেয়ারম্যানকে আবার বলেন, ‘আপনাকে মনে হয় ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সরাসরি উত্তর চাইলে নাছিমা বেগম বলেন, ‘আপনারা যে প্রশ্ন বারবার করছেন, সাতজনের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা তা আরও সুনির্দিষ্ট হলে আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারব। মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে আমরা সমর্থন করব না।’ তখন একজন গণমাধ্যমকর্মী চেয়ারম্যানকে জানান, টেকনাফের পৌর মেয়রের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সুনির্দিষ্ট করেছে।

২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান কমিশন কাজ করেছে। চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেই জানতে চান, বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী ছিল? এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁকে জানান, মিয়ানমারের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে।

সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে নাছিমা বেগম যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কামাল উদ্দিন আহমেদকে কিছু বলার অনুরোধ করেন।
কামাল উদ্দিন আহমেদ এ সময় বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্তের (যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা) ক্ষেত্রে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে দেখেছি, রাজনৈতিক একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আমরা ঘটনা যাচাই করার জন্য অপেক্ষা করছি।’

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে র‌্যাবের যে কার্যক্রম, তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বরাত দিয়ে বলা হয়, র‌্যাবের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০০টির বেশি গুম, ২০১৮ সাল থেকে ৬০০ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

গত দুই বছরে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার রক্ষা, মালিক-ভাড়াটের দ্বন্দ্ব নিরসনসহ বিভিন্ন ঘটনায় সুয়োমোটোর কথা তুলে ধরেন চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। তখন একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, এগুলো তো মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ। ভাড়াটের দ্বন্দ্ব তো ওয়ার্ড কাউন্সিলরই সমাধান করতে পারেন। এ পর্যায়ে চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবাধিকার কমিশনের যে কাজ, তাকে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণের কাজ বলছেন। নারীর সম্ভ্রম লুট মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? তাহলে তো বলতে হবে, গুম-খুনের বিষয় দেখা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ।’

সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকেই নাছিমা বেগম মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমানের বিভিন্ন কাজ ও বক্তব্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কমিশনকে নিয়ে যেসব নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কমিশন আইনের ১২ ধারায় যে কাজের কথা বলা আছে, আইনের ভেতরে থেকেই কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয় কী কাজ করছি, তা চিৎকার করে বলছি না। আগের কমিশন তো কথা বলত। আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।’

নাছিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমলা হওয়া যে অপরাধ তা জানা ছিল না। এটা যে অযোগ্যতা তাও জানা ছিল না। বলা হচ্ছে কমিশন নাকি জেগে জেগে ঘুমায়। কে ঘুমিয়েছে? আগেরজন না আমরা? আমরা যে কাজ করছি তা ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। অথচ আমাদের আত্মীয় পরিজন সবাই জানল, আমরা কমিশন চালাতে ব্যর্থ। কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান টকশোতেও বলেছেন, কমিশনকে এমন অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন যা আমরা ধরে রাখতে পারিনি।’

পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নাছিমা বেগম। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন অভিযানে যায়, তখন কমিশনের গাইডলাইন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটা অনুসরণ করলে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে।

নাছিমা বেগম জানান, গত শনিবার পর্যন্ত কমিশনের হিসাব বলছে, কমিশনে আসা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ৮২ শতাংশই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জেসমিন আরা বেগম ও মিজানুর রহমান খান, সচিব নারায়ণ চন্দ্র সরকার, পরিচালক মো. আশরাফুল আলম ও কাজী আরফান আশিক এবং উপপরিচালক এম. রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন