গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০২২ গত ২৮ মার্চ জাতীয় সংসদে তোলা হয়। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনটি বিশ্লেষণ করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছে সম্পাদক পরিষদ।

সম্পাদক পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ মনে করে, প্রস্তাবিত গণমাধ্যমকর্মী আইন, ২০২২-এর মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বার্থ রক্ষার নামে গণমাধ্যমশিল্প ও গণমাধ্যমকর্মীদের আমলাতন্ত্রের অধিকতর নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

গণমাধ্যম আদালত ও আপিল আদালত গঠনের মাধ্যমে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের আদালত স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। এই আইন বাস্তবায়িত হলে ‘এডিটরিয়াল ইনস্টিটিউশন’ (সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান) পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটিতে মালিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানানো হয়েছে এবং এর ফলে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সংবাদপত্রশিল্প ব্যক্তিমালিকানাধীন, কিন্তু এ আইনে গণমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপের পথ উন্মোচন করা হয়েছে।

সম্পাদক পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোভিড মহামারির অভিঘাতে সংবাদপত্রশিল্প আজ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশ-বিদেশে অনেক দৈনিক পত্রিকা ছাপা বা প্রিন্ট সংস্করণ কমাতে বা বন্ধ করতে শুরু করেছে। বিজ্ঞাপনের আয় হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ছাপা পত্রিকা স্থানান্তরিত হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এমন পরিস্থিতিতে কঠিন সময় পার করছে ছাপা পত্রিকা। কিন্তু সংবাদপত্রের এই সংকটকালের মধ্যেই গত ২৮ মার্চ জাতীয় সংসদে গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০২২ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি বিশ্লেষণ করে এর ৫৪টি ধারার মধ্যে ৩৭টি ধারাই সাংবাদিকবান্ধব নয় বলে মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন