ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের। প্রস্তুতি শেষে ইসি সচিবালয় থেকে কমিশনে নথি উত্থাপন করা হবে। এরপর কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
ইসি সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ-সংক্রান্ত চিঠি এসেছে। এরপর আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। এ জন্য দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। প্রস্তুতি শেষ হলে কমিশনকে জানানো হবে। তাঁরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করবেন।’
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ১০ মার্চের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হবে। একই সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হবে। এটি হয়ে গেলে মার্চের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং এপ্রিলের শেষ অথবা মের প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হবে।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন কাছাকাছি সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, জানাতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমরা একদিনে সারা দেশে সংসদ নির্বাচন করি। কিছুদিন আগে চার সিটিতে একই দিনে নির্বাচন করেছি। সুতরাং একদিনে যদি করতে হয়, সে জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
অনলাইনে ভোটার তথ্য সংশোধন করা যাবে
বিদ্যমান ভোটার তালিকার ভোটাররা আজ বুধবার থেকে অনলাইনে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের সুযোগ পাবেন। এই সংশোধনের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এ বিষয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়।
ইসি সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই অনলাইনে ভোটারদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আজ বিস্তারিত জানানো হবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইসি আগামী ২৬ মার্চ থেকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করবে। তার আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করতে হবে। সে জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে মৌলিক তথ্য পূরণের আবেদন করা হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে ভোটাররা তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভোটার নিজেই সংশোধন করে নিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন