বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল মাসুদ আল মাহাদীর মরদেহ উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহটি নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। দুপুর ১২টার দিকে মাহাদীর জানাজা হয়। সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্য, বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মাসুদ আল মাহাদীর বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত ও ভাইভার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের মৌখিক পরীক্ষায় আজ তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আর্থিক সংকটে থাকা মাহাদী কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ধারও করেছিলেন। তাঁর মা অসুস্থ, ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচও তাঁকেই চালাতে হতো। আর্থিক সংকট, করোনা পরিস্থিতির কারণে চাকরি পেতে বিলম্ব হওয়া, পরিবারের প্রত্যাশার চাপ—এসব মিলিয়ে হতাশার মধ্যে ছিলেন মাহাদী। এর আগে তিনি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

মাসুদ আল মাহাদী ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন, শিক্ষার্থী নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনসহ ন্যায়সংগত বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরে তিনি পড়াশোনায় বিরতি নেন। পরে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১৬ সালে স্নাতক ও ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন মাহাদী।

default-image

মাহাদীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক জানিয়েছেন তাঁর শিক্ষক, সহপাঠীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। অনেকে নিজেদের প্রোফাইল ছবিতে মাহাদীর ছবি দিয়েছেন। কেউ কেউ মাহাদীর মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁরা এ মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

চকবাজার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাহাদীর মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর তাঁরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

মাসুদ আল মাহাদীর বিভাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মীর আরশাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাহাদী আমাদের ফার্স্ট বয় ছিল। তার মতো মেধাবী ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই রেয়ার। চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছিল, এটা তো একটু লম্বা প্রক্রিয়া। সে ক্ষেত্রে হতাশা থাকতেই পারে, কিন্তু এতটা না যে তার জন্য সে আত্মহত্যা করতে পারে। তার কিছুটা আর্থিক সংকট ছিল। কিন্তু চলার জন্য যতটুকু লাগে, তা ছিল।’

গতকাল রাতে দেওয়া এক শোকবার্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান আবুল মনসুর আহাম্মদ মাসুদ আল মাহাদীর মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক জানাচ্ছেন। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন