default-image

 জানি আজ তুমি মোটেও ভালো নেই। কালবৈশাখী ঝড় বইছে তোমার বুকে। আমাদের ছাড়া তুমি কীভাবে ভালো থাকো বলো? আমরা বিহীন তুমি বড্ড যে বেমানান। কতদিন তোমার মুখ দেখি না। খুব অভিমান করে আছ তাই না?

একটু ফ্যাকাশেও হয়ে গেছ হয়তো তুমি এত দিনে। কারণ, তোমার যত্ন নেওয়ার জন্য যে কেউ নেই। আচ্ছা! তোমার ওই মায়াভরা চোখ দিয়ে কি আমাদের জন্য কাঁদো? জানি তুমি বিহীন আমাদের হৃদয়ে উত্তাল তরঙ্গের মতো আবেগকে একটু করে হলেও তুমি অনুভব কর।

আচ্ছা! তোমার উঠোনে কি পাখিরা বিচরণ করছে? ময়না দ্বীপে অতিথি পাখিরা কি এসেছে? জানি চুপ করে থাকবে তুমি, কারণ আমরা যে নেই। তুমি জান? তোমার দূরত্বে আমাদের হৃদয়েও বৈশাখের মতো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। শুধু মন চাচ্ছে বৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে তোমার কাছে ছুটে যাই।

একটু সময় পেলেই তোমার পার্কে, শহীদ মিনারে, টিএসসির প্রাঙ্গণে কতই না আড্ডায় মেতে উঠতাম। তোমার প্রাঙ্গণকে মাতিয়ে রাখতাম সব সময়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আড্ডাটা আরও যেন জম্পেশ হয়ে উঠত। সঙ্গে থাকত গিটারের তারের ঝনঝনানি। সবকিছু ছাপিয়ে সেখানে আজ ঠাঁই করে নিয়েছে অন্ধকার। একরাশ দুঃখে তোমারও হয়তো বুক ফাটে তাই না?

default-image

তোমার বুকে গজিয়ে ওঠা ঘাসগুলো কি প্রাণহীন হয়ে আছে? নীল দিঘির জলগুলো মনে হয় শান্তিতে আছে, দুষ্টু ছেলেদের দাপাদাপি-লাফালাফি নেই। লন্ডন রোডে কি কারও বিচরণ আছে? খেলার মাঠে মুক্তমনে কাপলরা কি চুটিয়ে প্রেম করছে? হলগুলোর কী খবর? সেইগুলো তো মনে হয় ভূতেদের দখলে। উফ! কত প্রশ্নই না করে যাচ্ছি তোমায়। আমরা বিহীন সবকিছু সামলে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে তোমার তাই না?

কলঙ্গকিনী রোডটা কি নীরব হয়ে আছে? সেখানে কাপলরা কি বাতাসে দুলতে দুলতে মিষ্টি আলাপ করছে? শান্তিনিকেতনটা মনে হয় ঠিকই শান্ত হয়ে আছে। চায়ের চুমুক দিতে কেউ আসে না। আসে না কেউ পাশে থাকা লাইব্রেরিতে বইগুলো ওল্টাতে। মলাটের ওপর নিশ্চয় ধুলো জমে গেছে? হতাশার মোড়টা একরাশ হতাশা নিয়ে আর্তনাদ জানাচ্ছে তাই না? আচ্ছা! ময়না দ্বীপের পেছনে লুকিয়ে থাকা আমগাছটার কী খবর? চুরি করতে আসেনি তো কেউ? যত্ন করে রেখো কিন্তু কাউকে ধরতে দেবে না।

তুমি কি জানো মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পাশে যে একটা কদম ফুলের গাছ আছে? ওখানে চেয়ারের ওপরে বসে থেকে কদম ফুলকে দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগে! গাছটার দিকে নজর রেখো। গেটের পাশের কৃষ্ণচূড়াগাছটা কি লাল হয়ে আছে? তার ফুলের পাপড়িগুলো যে তোমার দুয়ারকে রঞ্জিত করে তুমি জানো? সেখানে বসে ললনারা মনের সুখে ফুচকা খায় আর উতলা মনে একে অপরকে মনের কথা বলে। তুমি দৃষ্টি রেখো কৃষ্ণচূড়ার দিকে।

ওহ! লাল বাসটার কথা তো বলাই হয়নি। কেমন আছে আমাদের স্বপ্ন সারথি? কতদিন ছেঁড়া কাগজের পাতা দিয়ে সিট রাখা হয় না। গলা ছেড়ে গান গাওয়া হয় না। ‘গাঁজার নৌকা পাহাড়তলি যায় ও মিরা ভাই গাঁজার নৌকা পাহাড়তলি যায়।’ পাগল প্রেমিকটা ঠিক করে রেখে ছিল শিগগিরই তোমার দেখা পেলে তার স্বর্গের অপ্সরীকে লাল বাসটাকে সাক্ষী রেখে ভালোবাসার কথাটা বলে দেবে। অপেক্ষার প্রহরটা শুধু দীর্ঘায়িতই হতে লাগল।

default-image

ওগো প্রিয়, আমাদের ভালোবাসা তোমাকে অনেক ভাবানুবাদেই বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তুমিবিহীন আবেগটা যে ক্রমে ক্রমে পাহাড়সম হতে চলেছে। শয়নে স্বপনে, চলনে কথনে তোমার স্মৃতিতেই সব সময় বিভোর হয়ে থাকি। ভালো থেকে তুমি। আবার আসিব ফিরে তোমার আঙিনায় ঠিক সকালটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। নানা আয়োজনের মাঝে মাতিয়ে রাখব তোমায়। সন্ধে তারাটা দুচোখ ভরে দেখব। শান্তিনিকেতনের লাইব্রেরিতে আবার চায়ের চুমোক দিতে দিতে বইগুলো ওল্টাব। হতাশার মোড়ে ব্যর্থ প্রেমিককে একটু সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করব। খেলার মাঠে বসে যুগল প্রেমের গল্প শুনব। তোমার যত্নটা এখন তুমিই নিয়ো প্রিয়। এলোমেলো হয়ে গেলে আমরা আবার সাজিয়ে নেব। তুমি হয়ে উঠবে চিরযৌবনা। তোমার প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেলফি তুলতে গিয়ে অথবা ভালোবাসার অত্যাচারে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি কথা দিচ্ছি আর হবে না।

ও হ্যাঁ, তোমারও যদি কোনো অনুভূতি থাকে বাতাসের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়ো। প্রকৃতিকে বলে রাখব পৌঁছে দিতে।

ইতি

তোমার ভূমিতে বিচরণ করা স্বপ্নসারথিরা।

লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন