default-image

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর যুবদলের (দক্ষিণ) সভাপতি রফিকুল আলমসহ আটজনের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ এ আদেশ দেন।

এর আগে আজ সোমবার আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য তাঁদের ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত প্রত্যেকের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন—রফিকুল আলম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. আবুল কাশেম, মো. ওয়াহিদ, মো. রাসেল, মো. খালেক টিপু ও মো. গনি।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ১ মার্চ  ছাত্রদলের ১৩ জন নেতা-কর্মীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত।

গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদলের ১৩ জন নেতা-কর্মী হলেন আহসান হাবিব ভূঁইয়া, কবির হোসেন, মঞ্জুরুল আলম, মনোয়ার ইসলাম, আরিফুল হক, আনিসুর রহমান, আতাউর রহমান, মাসুদ রানা, আতিফ মোরশেদ, রমজান আহমেদ, শফিকুল ইসলাম, মো. শাহিরাজ ও আবু হায়াত জুলফিকার।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।

মামলায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের খন্দকার মুজাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক সওগাতুল ইসলামসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্রদল সেদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ ডেকেছিল। পুলিশের বাধা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় সেই কর্মসূচি শুরুর আগেই পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশের ধাওয়ার মুখে বিএনপি-ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী একপর্যায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে ঢুকে নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে পুলিশ লিখেছে, রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিনা অনুমতিতে, বেআইনিভাবে, প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার নামে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন । পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এরপরও ছাত্রদলের উগ্র বিক্ষোভকারীরা মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল থাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা লাঠিসোঁটা ও ইটের টুকরা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর আঘাত করে। তাঁদের মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে ১০ জন গুরুতর জখম হন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন