কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সম্প্রতি খুনসহ নানান অপরাধের ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। মাদক ব্যবসা সেখানকার একটি পুরোনো সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে গতকালের সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গারা যাতে মাদক ব্যবসা না করতে পারে, সে জন্য জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাফ নদী দিয়ে মাদক চোরাচালান রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। সীমান্তে টহল জোরদারসহ সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। কোনোভাবেই মিয়ানমার থেকে মাদক আনার ব্যবসা যাতে তারা না করতে পারে, আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

রোহিঙ্গারা যাতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিতে না পারে, সে বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। তারা যাতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে না পারে, সে জন্য জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে এখন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ১৯৯১ সালে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য চারটি শিবির ছিল। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর টেকনাফে আরও ৬টি এবং উখিয়ায় ২৪টি আশ্রয়শিবির হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিবছর ৩৫ হাজার করে শিশুর জন্ম হচ্ছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে পাঁচ বছর হলো, সে হিসাবে তাদের সংখ্যায় প্রায় দেড় লাখ নতুন মুখ যোগ হয়েছে। এটাকে আশঙ্কার জায়গা বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্মহার কমিয়ে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কাজে লাগানো হবে।