default-image

ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন, ঘড়িতে সকাল সাড়ে ১০টা। একই সঙ্গে পাতাঝরা ও নতুন পাতার কয়েকটি গাছের সামনে ৮৪ বছর বয়সী একজন শিক্ষক লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়ে। আনমনা হয়ে কী যেন ভাবছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই যুগ পূর্তির আনন্দ শোভাযাত্রা আসছিল তাঁর দিকেই। কয়েকজন শিক্ষক তাঁকে নিয়ে গেলেন শোভাযাত্রায়। এরপর তাঁকে নেওয়া হলো মুক্তমঞ্চে। হাতে তুলে দেওয়া হলো সম্মাননা স্মারক। শিক্ষকের ভাবনার বিষয়বস্তু জানা গেল তখনই।
‘আমাকে যখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখন এখানে ছিল পানি আর পানি। আমি কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে নেমে পড়লাম কাজে। প্রথম তিন থেকে ছয় মাস লাগল রাস্তা তৈরি করতে। এরপর মাটি ভরাট করে দুটি ভবন নির্মাণ করি। বসন্তে গাছে যেমন নতুন পাতা আসে, তেমনি পয়লা ফাল্গুনকে সামনে রেখে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে চেয়েছিলাম। মাত্র দেড় বছরের মাথায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলাম। আজকের মতো এক পয়লা ফাল্গুনে। এখানে এলে মনে হয়, এই তো কয়েক দিন আগে মাত্র কাজ শুরু করেছিলাম। এরপর কেটে গেছে ২৪ বছর। আমার সেই বিশ্ববিদ্যালয় আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভাবতে খুবই ভালো লাগে। ফিরে যাই সেই সময়ে, যখন পানি আর পানির নিচের জমি ছাড়া এখানে কিছুই ছিল না। এখন অনেক কিছুই হয়েছে। কিছু অপূর্ণতা তো রয়েছেই। সেসব পূরণ করার দায়িত্ব আপনাদের।’ এভাবেই নিজের বক্তব্য শুরু করেছিলেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রথম উপাচার্য মো. ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার তাঁকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন অধ্যাপক ছদরুদ্দিন চৌধুরী। বক্তব্যের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তমঞ্চ ও মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শক-শ্রোতাদের পিনপতন নীরবতা। তিনি কথা বলছিলেন আর বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নের সময়ে।
অধ্যাপক ছদরুদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই তাঁর সঙ্গে ছবি তুললেন। এরপর সমবেতদের মুখে মুখে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম উপাচার্য ও পয়লা ফাল্গুনের গল্প। একটু দূরে গিয়ে কয়েকজন বলাবলি করছিলেন, ‘পয়লা ফাল্গুন ও শাবিপ্রবির সঙ্গে অধ্যাপক ছদরুদ্দিন চৌধুরী এ অনুষ্ঠানে একাকার হয়ে গেছেন।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন