বাগেরহাটের ফকিরহাটে শেখ হারুন অর রশিদ (৫৫) নামের এক গ্রাম পুলিশকে গুলি করে হত্যার দায়ে চরমপন্থী দলের চার সদস্যকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম সোলায়মান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের মূলঘর গ্রামের শামীম শেখ, একই গ্রামের আনোয়ার শেখ ওরফে ছুটে, পার্শ্ববর্তী কাকডাঙ্গা গ্রামের রনি সরদার এবং সোনাখালী গ্রামের হবি মোল্লা। তাঁরা সবাই নিষিদ্ধঘোষিত পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) সক্রিয় সদস্য। মামলা চলাকালে আরেক আসামি ইব্রাহিম শেখের মৃত্যু হওয়ায় আদালত তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ইব্রাহিম শেখ মূলঘর গ্রামের ইন্তাজ শেখের ছেলে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেখ মোহামঞ্চদ আলী জানান, ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে মূলঘর গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রাম পুলিশের সদস্য শেখ হারুন অর রশিদ দু-তিনজন সঙ্গীসহ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁদের গুলি করে হত্যা করে। পরদিন নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই হিরু শেখ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফকিরহাট থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল চন্দ্র বণিক পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ঘটনার দিন নিহত হারুনের সঙ্গে থাকা গোলাম মোস্তফা, নওশের ও সারোয়ার আদালতে ১৬১ ধারায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দি অনুযায়ী আসামিদের অনুপস্থিতিতে আদালতের বিচারক ওই চারজনকে ফাঁসির আদেশ দেন। আদালতে বিচার চলাকালে আসামি ইব্রাহিম শেখের মৃত্যু হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন