ফরিদপুর ট্রেজারি অফিসে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প-সংকট দেখা দিয়েছে। টানা অবরোধ-হরতালের কারণে ঢাকা থেকে স্ট্যাম্পের কোনো চালান আসছে না। এতে ভাটা দেখা দিয়েছে জমি কেনাবেচা ও রেজিস্ট্রেশনে।
জেলা ট্রেজারি অফিস সূত্র জানায়, স্ট্যাম্পের নতুন চালান আসতে পারছে না। তাই আগে সংগ্রহ করা এবং আশপাশের জেলা থেকে আনা স্ট্যাম্প ও ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কয়েকজন জমি ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্ট্যাম্প-সংকটের কারণে অনেক সময় দলিল সম্পাদন না করেই তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বিক্রেতা স্ট্যাম্প দিতে না পারলেও তা চড়া দামে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ট্রেজারি অফিসের তত্ত্বাবধানে বিজি প্রেস থেকে ফরিদপুরে স্ট্যাম্প আনা হয়। বিগত কয়েক মাসের ব্যবহারের আলোকে প্রতি মাসের শুরুতে চাহিদা জানাতে হয়। সেই চাহিদাপত্র অনুযায়ী স্ট্যাম্প সরবরাহ করা হয়।
ফরিদপুর শহরের স্ট্যাম্প বিক্রেতা মো. মোস্তফা মিয়া জানান, অবরোধ শুরুর পর থেকে ফরিদপুরে স্ট্যাম্প-সংকট শুরু হয়। বর্তমানে প্রয়োজনীয় ১০০, ২০০ ও ৫০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প সরবরাহ করা হচ্ছে না। ট্রেজারি অফিসে ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প আছে। কিন্তু সেগুলো তেমন কাজে লাগে না। তিনি আরও জানান, এই সংকটের কারণে রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাতে খরচও বেশি পড়ছে।
অপর স্ট্যাম্প বিক্রেতা মো. ওবায়দুর রহমান খান জানান, স্ট্যাম্প-সংকটের কারণে জমি রেজিস্ট্রি অনেক কমে গেছে। ট্রেজারি অফিস ২১ জানুয়ারি থেকে সব ধরনের স্ট্যাম্প দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘চালান আসে নাই’।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের ট্রেজারি কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত বলেন, ‘অবরোধ শুরুর পর ঢাকা থেকে স্ট্যাম্পের চালান আনা যাচ্ছে না। আমরা এর মধ্যে দুবার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু চালান আসেনি।’
জমির রেজিস্ট্রি কমে গেছে স্বীকার করে ফরিদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের পেশকার হারুন অর রশীদ জানান, আগে মাসে ১২০০ থেকে ১৩০০ রেজিস্ট্রি হতো। কিন্তু এখন ৮০০ থেকে ৯০০ দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে।
সংকট সমাধানের প্রশ্নে রুবায়েত হায়াত বলেন, স্ট্যাম্প বিক্রেতারা মূলত ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই স্ট্যাম্পেরই বেশি সংকট। তবে খুব বেশি জরুরি হলে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় স্ট্যাম্প আনা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন