জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির চূড়ান্ত ফল প্রকাশের এক বছর পর তা সংশোধন করে আবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফল (সিজিপিএ) আগের থেকে খারাপ হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আগের ফল বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ৩৮তম ব্যাচের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের (চূড়ান্ত) পরীক্ষা হয়। ৭৫ জন শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস পর ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশিত হয়। এতে পাঁচজন অকৃতকার্য হন।
ফল প্রকাশের প্রায় এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন উপলক্ষে সনদ তৈরি করতে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় প্রকাশিত ফলে ভুল খুঁজে পায়। এ পরিস্থিতিতে ২৭ জানুয়ারি সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়। তাতেও দুজনের ফল ভুল করা হয়। আবার তা ওই দিনই সংশোধন করা হয়। এভাবে দুইবার ভুল করে দুইবার সংশোধন করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
প্রথমবার সংশোধিত ফলে দেখা যায়, আগের থেকে সিজিপিএ কমে গেছে অন্তত ৩৯ জন শিক্ষার্থীর। ফল অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়জনের। তবে কারও সিজিপিএ বাড়েনি। সিজিপিএ কমে গেছে, এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আগে তাঁদের সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ৫০-এর ওপর। এখন তা ৩ দশমিক ৫০ এর নিচে চলে এসেছে।
প্রথমবার সংশোধিত ফলেও দুজনের সিজিপিএ ভুল করা হয়, লেখা হয় ৩ দশমিক ৪৯ ও ৩ দশমিক ৪৪। পরে তা আবার সংশোধন করে প্রকাশ করা হয় ৩ দশমিক ৪৩ ও ৩ দশমিক ৬১।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে সরকারি কর্মকমিশনের (বিসিএস) পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন, অনেকে চাকরিও করছেন। নতুন যে ফল প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বেশির ভাগের ফল আগের থেকে খারাপ হয়েছে। তাই তাঁরা এ ফল মানেন না। এ কারণে চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
এ ব্যাপারে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ভুল করেছে। তাই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘ভুল ধরা পড়ার পরই তা সংশোধন করা হয়েছে। বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও ভুল তো সংশোধন করতে হবেই।’
এ ঘটনায় বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়—দুই পক্ষেরই দায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, এক বছর পর ফল সংশোধন হয়েছে, শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে এটা সত্য। কিন্তু ভুল সংশোধন ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও নেই। কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন