ফেনীতে কোভিডে আক্রান্তদের সুস্থতার হার ৬৮ দশমিক ২১ শতাংশ

বিজ্ঞাপন

ফেনীতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত মানুষের মধ্যে সুস্থতার হার বাড়ছে। আজ সোমবার পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়েছেন ৯১৪ জন, যা মোট আক্রান্তের ৬৮ দশমিক ২১ শতাংশ। জেলায় এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৬৪ জন আর আইসোলেশনে থেকে ৩০৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, সার্বক্ষণিক ফলোআপ করা, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের জটিল কোনো উপসর্গ না থাকা ও তুলনামূলকভাবে বয়স্ক ও শিশুরা কম আক্রান্ত হওয়ায় এ জেলায় কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত সেরে উঠছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পশ্চিম মধুগ্রামে প্রথম এক যুবক কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন। আজ ৩ আগস্ট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ জনকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় সুস্থ হয়েছেন ১০৩ জন। দাগনভূঞায় ২, সোনাগাজীতে ৩ ও ছাগলনাইয়ায় ৩ জনকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

সুস্থ হয়ে ওঠা একাধিক রোগী জানান, করোনায় আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ভয় বা গুজবে কান না দিয়ে মনোবল দৃঢ় রাখতে হবে। জটিল কোনো উপসর্গ দেখা না দিলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করলে বাড়িতে থেকেই সুস্থ হওয়া সম্ভব।

ফেনীর সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন জানান, কোভিড-১৯-এ আক্রান্তদের সুস্থ হওয়া স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বেশির ভাগ রোগী শুরু থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করায় সুস্থতার হার বেড়েছে। এখানে অধিকাংশ রোগীর লক্ষণগুলো মৃদু হওয়ায় তাঁরা বাড়িতে থেকে দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২৫ জনকে ঢাকাসহ অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত ৬৪ জন ফেনী জেনারেল হাসপাতাল, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ৬ হাজার ৯৭৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ৬ হাজার ৮৫২ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত জেলার ৩৮ হাজার ৯১০ জন টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন