default-image

আদালতের নির্দেশ অনুসারে সব প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন বা নামফলকে বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও শুধু ইংরেজিতে লেখা সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। কোথাও আবার বড় হরফে ইংরেজিতে সাইনবোর্ডের নিচে বা এক কোণে ছোট করে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকে।

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডি, বাংলামোটর, পান্থপথ, মগবাজার, রামপুরা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চোখে পড়ে এমন দৃশ্য।

সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন বা নামফলকে বাংলা লেখার বিষয়টি তদারকি করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা একুশে ফেব্রুয়ারির আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় আবশ্যকীয় শর্ত আরোপ করা হয়। যাতে বলা হয়, অবশ্যই সাইনবোর্ড, বিলবোর্ডে প্রচার করতে বাংলায় লিখতে হবে। তা করা না হলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে
মো. সেলিম রেজা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষায় লেখা নিয়ে এ–সংক্রান্ত তৎপরতা চোখে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ সময় জরিমানাও আদায় করার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় সাইনবোর্ড বাংলায় লেখার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া থাকে। তারপরও অনেকে সেটা অনুসরণ করে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় আবশ্যকীয় শর্ত আরোপ করা হয়। যাতে বলা হয়, অবশ্যই সাইনবোর্ড, বিলবোর্ডে প্রচার করতে বাংলায় লিখতে হবে। তা করা না হলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

default-image

প্রতিষ্ঠানের বাংলা সাইনবোর্ড–সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা আসে সাত বছর আগে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, দপ্তরের নামফলক বাংলায় লেখার নির্দেশ দেন আদালত এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আদালত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

কিন্তু এখনো ফেব্রুয়ারি মাস এলেই এ–সংক্রান্ত অভিযান নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিতে দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন। গত শুক্রবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেশের একাধিক দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্য ভাষায় লেখা নামফলক, সাইনবোর্ড, ব্যানার বাংলায় প্রতিস্থাপন করতে হবে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিন্তু ভাষার মাস এলেই এ তৎপরতা কেন? এর উত্তরে সেলিম রেজা বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। বছরব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলমান থাকে। তবে ভাষার মাসে স্বাভাবিকভাবে সবারই উৎসাহ-উদ্দীপনা বেশি থাকে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা বছরই আমাদের কার্যক্রম চলমান। এখানে মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে। আইন দিয়ে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা যায় না। এ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও লিখতে হবে।’

বাংলা সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক হলেও তা অনেকেই জানেন না। বাংলামোটরের টাইলসের দোকানে নিযুক্ত কর্মীরা সে কথা জানালেন। বাংলামোটরের মোড়ের কাছেই পাশাপাশি দুটি দোকানের একটিতে ইংরেজির সঙ্গে বাংলা লেখা ও আরেকটিতে বাংলা লেখা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রয়কর্মী মো. হান্নান বলেন, পাশের দোকান নতুন করে সাজানোর সময় বাংলা ভাষা ব্যবহার করেছে। আমাদের দোকানটিও হয়তো করে ফেলা হবে।’

পান্থপথের গ্রিন লাইন পরিবহনের মুখোমুখি দুটি কাউন্টার। সেখানে বড় বড় হরফে ইংরেজিতে নাম লেখা। কাউন্টার ব্যবস্থাপক মো. সম্রাট বলেন, বাংলা সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। পাশাপাশি সৌদি পরিবহনের কর্মীদের বক্তব্যও একই।

সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন বা নামফলকে বাংলা ভাষা ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিকবার গণবিজ্ঞপ্তি এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশ মানবে না, তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে সিটি করপোরেশনের।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন