default-image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনের দায়িত্ব নিলেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান।

গতকাল সোমবার রাতে সুফিয়া খাতুনের মেয়ে মিনা আক্তার মাকে উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে ফেলে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সুফিয়া চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে দাউদকান্দির ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুফিয়াকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে সুফিয়ার একমাত্র ছেলে মোখলেছুর রহমান ও ভাইয়ের ছেলে আবদুল বাতেনকে খোঁজে বের করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে কথা বলেন ইউএনও। সুফিয়াকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়া, এক লাখ টাকা মূল্যের একটি সরকারি বসত ঘর দেওয়া, হুইল চেয়ার দেওয়া এবং বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সেলিম শেখ, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

সুফিয়া খাতুনের ছেলে মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁর বাবা কালাই মিয়া মারা গেছেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বসতবাড়ি পাঁচ বছর আগে একমাত্র বোন মিনার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পর তিনি বাড়িছাড়া হন। বাসে চানাচুর বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে নয় বছর আগে সৌদি আরব চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর মেয়ে সুমির শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। অর্থের অভাবে আট বছরের ছেলে বাবুকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতে মাকে নিজের কাছে রাখা এবং খাওয়ানো তাঁর পক্ষে সম্ভব না।

সুফিয়ার মেয়ে মিনা আক্তার বলেন, মা তাঁর কাছে থাকতেন। অভাবের কারণে তিনি মাকে ফেলে যান।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম বলেন, সুফিয়া খাতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। সুফিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন