default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক কিছু লিখলে তদন্ত করে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না করে সাম্প্রদায়িক হামলা কখনোই কাম্য নয়, এটি স্বাধীন দেশের চেতনার পরিপন্থী।

সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দুদের কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ও ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেছেন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের মৌলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে করে নিজেদের দাবি ও অবস্থানের কথা জানায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, কেউ আইন অমান্য করলে আইন অনুযায়ী তাঁকে শাস্তি দিতে হবে। এর জন্য সাম্প্রদায়িক হামলা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি অগণতান্ত্রিক ও পাকিস্তানি শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। আগের চেয়ে বাংলাদেশে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে এর আরও উন্নতি হওয়া দরকার বলে তিনি মত দেন। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য কমিশন গঠন ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সাংসদ উষাতন তালুকদার বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখনো যদি তাঁরা নির্যাতনের শিকার হন, তবে দেশ স্বাধীন হয়ে কী লাভ হলো। ধর্মীয় উন্মাদনায় অন্ধ না হয়ে এবং নিজেদের মধ্যে অহেতুক হানাহানি না করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভিএইচপি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল।

করোনাকালে সাম্প্রদায়িক হামলা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৭ জনকে হত্যা, ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা, ১১ জনকে হত্যার হুমকি, ৩০ জনকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি প্রতিমা ভাঙচুর, ২৩টি মন্দিরে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভিএইচপি বাংলাদেশের সভাপতি সহদেব চন্দ্র বৈদ্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত নাথ, কোষাধ্যক্ষ সাধন চন্দ্র দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

default-image

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রেসক্লাবে সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সময়ে মানববন্ধন হলেও এই তিন সংগঠনের কর্মসূচি ছিল পৃথক।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক অভিযোগ করেন, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে হামলা ও অগ্নিসংযোগে প্রায় তিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও সংসদে আসন সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।

মানববন্ধনে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিধান বিহারী গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি দ্বীনবন্ধু রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন। মানববন্ধন শেষে হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

হিন্দু মহাজোটের পাশেই পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জাগো হিন্দু পরিষদ।

মানববন্ধনে জাগো হিন্দু পরিষদের সহসভাপতি অভিজিৎ বণিক বলেন, স্বাধীন দেশে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে একের পর এক হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের উচিত, যারা গুজব ছড়িয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ফাটল ধরাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। মানববন্ধনে জাগো হিন্দু পরিষদের উপদেষ্টা মিলন শর্মা, অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সংগঠনটির সভাপতি সঞ্জয় বণিক, সাধারণ সম্পাদক নিতাই দেবনাথ, অর্থ সম্পাদক পলাশ মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের মূল ফটকের উত্তর পাশে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। কর্মসূচিতে হিন্দু পরিষদের সভাপতি দীপংকর শিকদার বলেন, বারবার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায় না। সরকার কঠিন পদক্ষেপ নিলে দুষ্কৃতকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না। সংখ্যালঘুরা যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সে ব্যাপারে সরকারকে দৃষ্টি দেওয়া দাবি জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র। এ সময় সংগঠনটির মুখপাত্র সুমন কুমার রায়সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা ঘুরে শেষ হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0