জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা যায়, করোনার সংক্রমণ রোধে দ্বিতীয় দফার বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ করা টাকা ও চাল বিতরণকাজ করেছে জেলা প্রশাসন। গত ২৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় ৮ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৫ পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের, উপজেলা প্রশাসনের ও ৩৩৩ (ট্রিপল থ্রি) নম্বরে ফোন করে খাদ্যসহায়তা চাইলেই বিপাকে পড়া কর্মহীন মানুষের বাড়িতে খাদ্যসহায়তা ও নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার থেকে যাতে মানুষ খাদ্যসহায়তা পায়, তা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের ফোন নম্বরে খুদেবার্তা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে। ওই খুদেবার্তায় জানানো হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও তাঁর পরিবারের খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন হলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানাতে। তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা তা পৌঁছে দেবেন।

শরীয়তপুর সদরের ইউএনও মনদীপ ঘরাই বৃহস্পতিবার সদরের আংগারিয়া বাজারে যান অভিযানে। সেখানে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পসরা নিয়ে বসেছিলেন। ওই ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর ঘরে খাবার নেই। বেচাকেনা না হলে তিনি বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিতে পারবেন না। তখন তাঁকে উপজেলা প্রশাসন থেকে সাত দিনের খাদ্যসহায়তা দিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, দেড় বছরের কাছাকাছি সময় ধরে করোনার প্রভাব। আগের মতো আয় নেই। বিভিন্ন সময় লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছি। জানি না সামনের দিনগুলো কীভাবে পার করব। সরকারি সহায়তা নিতেও লজ্জা লাগছে।

সদর উপজেলার ইউএনও মনদীপ ঘরাই বলেন, লকডাউনে হাটবাজার যেসব নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন, তাঁদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষ করে মুচি, সেলুনশ্রমিক, লেবার, ভ্যান-রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, পরিবহনশ্রমিকদের সহায়তা দেওয়ার সংবাদ জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, করোনা মহামারিতে মানুষ কাজ হারিয়ে বিপাকে আছেন। এমন বাস্তবতা সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তার কার্যক্রম চলমান আছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একজন মানুষও খাদ্যের জন্য কষ্টে থাকবে না। এই মুহূর্তে জেলা প্রশাসনে যা বরাদ্দ ছিল, তা অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইউএনওর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই ইউএনওরা মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা নিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন