বইমেলায় আপনার দেওয়া বইয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুর আলোর জানালা খুলবে

বিজ্ঞাপন
default-image

রোহানের জন্য এবারের বইমেলাটা ভিন্ন রকম আনন্দের। ‘মন ভোলা পণ্ডিত’ আর ‘ছোট সোনামনিদের রঙিন ইশপের গল্প’ বই দুটো পড়ে ওর খুব ভালো লেগেছিল। এবার এই বই দুটো ও দিয়ে দিয়েছে। ওর চাচা ওকে বলেছে, এই বইগুলো এখন এমন কিছু বাচ্চা পড়বে, যাদের মা–বাবা তাদের এমন গল্পের বই কিনে দিতে পারেন না।

রুকু, মুন্নী, আঁখির জন্যও এবার ‘বইমেলা’ নামের এক নতুন আনন্দ এসেছে। জীবনে প্রথমবারের মতো ওরা বইমেলায় গিয়েছে। মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রোহানের মতো আরও অনেকের দেওয়া বই নিয়েই এখন কাটছে ওদের মজার সময়। বই পড়ছে আনন্দে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের মিরপুর স্কুলের ৩০ জন বাচ্চার এ আনন্দ নিজে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আর ভাবছি দেখা না–দেখা সেই ৯ হাজার ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর আনন্দমাখা মুখের কথা; বইমেলা শেষে যারা পাবে এমন অসংখ্য গল্পের বই। কঠিন জীবনের হাজারো সংগ্রামের মাঝে এসব বই হয়ে উঠবে আনন্দ বয়ে আনার ছোট্ট একটা জানালা।

রোহানের মতো আপনার সন্তানকে ‘দেওয়ার আনন্দ’-এ উৎসাহিত করতে বইমেলা প্রাঙ্গণে এসে বই দেওয়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উদ্যোগ নিতে পারেন যেকেউও। অথবা নিজেও নতুন বা পুরোনো বই দিয়ে অংশ নিতে পারেন অনন্য এ উদ্যোগে।

এবারের বইমেলায় নতুন-পুরোনো বই সংগ্রহের জন্য কয়েকটি বুথ তৈরি করেছে বিকাশ। যেখানে মেলায় আসা যেকেউ বই দিতে পারছেন। বিকাশ নিজেই দিচ্ছে পাঁচ হাজার বই। সঙ্গে মেলার বুথগুলোয় যত বই সংগ্রহ হবে, সব একত্র করে ঢাকার এবং ঢাকার বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লাসহ পাঁচটি এলাকার ২০টি সুবিধাবঞ্চিত স্কুলের শিশুদের মধ্যে বইগুলো বিতরণ করবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের বইও দেওয়ার সুযোগ আছে এই বুথে। বড়দের বই প্রবীণ নিবাসের লাইব্রেরিসহ আরও অনেক লাইব্রেরিতে পৌঁছে দেব আমরা।

একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবে, তা অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন থেকে অনেকাংশেই বোঝা যায়। অস্কার ওয়ার্ল্ডের এ কথাগুলো ভীষণ রকম সত্যি। তাই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক শিক্ষার বইয়ের বাইরে আরও কিছু রঙিন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগে সবাই অংশ নিলে ভালো হয়।

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন সম্পর্কে যাঁরা অবগত নন, তাঁদের জন্য কয়েকটি তথ্য দিতে চাই। আমরা সমাজের নানা স্তরের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায় ৩ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে দেশের ৩২টি জেলায় নানান সেবাধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের তিনটি স্কুলে ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশু পড়ছে। রিকশাচালক, হোটেলের কর্মী, গৃহকর্মী, এমন প্রান্তিক আয়ের মা–বাবার সন্তানদের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের এই অভিযাত্রা অব্যাহত। কেবল স্কুল নয়, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা ৪৮০ জনকে আয়ের পথ তৈরি করে দিয়ে সক্ষম করে তুলেছে।

আমাদের কর্মকাণ্ড চলছে, চলবে। তবে বইমেলার এই এক মাসের সময়ে সবার সহযোগিতায় সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের সঙ্গে বিভিন্ন লেখকের বইয়ের সম্পর্ক তৈরি করে তোলার প্রচেষ্টায় ‘বই দেওয়া’ এই অসাধারণ উদ্যোগের সঙ্গে আপনারাও যুক্ত হবেন বলেই আশা।

*লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন