default-image

বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান এসব মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন করে পাঁচজন মারা গেছেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার ভোরের দিকে মৃত্যু হয়েছে রাসেল কাউসার টুটুল (৪২) এবং মোমেনা বেগম (৭০) নামের কোভিড ‘পজিটিভ’ দুই রোগীর। হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ প্রথম আলোকে বলেন, কোভিড পজিটিভ রাসেল কায়সার শহরের সাতমাথা প্রজাবাহিনী প্রেস লেনের বাসিন্দা। গতকাল রাত ১২টার দিকে তাঁকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ ভোরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজগড় কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতাল সূত্র জানায়, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা দেওয়া মোমেনা বেগম গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসে। আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি শহরতলীর হরিগাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর লাশও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই হাসপাতালে গতকাল রাত ৮টার দিকে মৃত্যু হয় শনাক্ত মানিক (৪৫) নামের একজন কৃষকের। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরকামারখন্দ গ্রামে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর লাশ জানাজা শেষে দাফনের জন্য সিরাজগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের আইসোলেশনে গতকাল রাত ৮টার দিকে মৃত্যু হয় করোনা ‘পজিটিভ’ হারুন অর রশীদ (৫৩) নামের একজন গ্রামপুলিশ সদস্যের। তিনি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোমালা এলাকার বাসিন্দা। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের উপযোগী করে তাঁর লাশ সাপাহার উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে একই হাসপাতালে আজ বিকেল ৪টার দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আবু তাহের (৫৪) নামের এক রোগীর। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোভিড পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে একই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোভিডে আক্রান্ত গোলাম রব্বানী নামের একজন স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলায়। এ ছাড়া গতকাল দুপুরের দিকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় রওশন আরা (৬৫) নামের আরও এক কোভিড ‘পজিটিভ’ রোগীর। তাঁর বাড়ি মধ্যপালশা এলাকায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0