default-image

এখনো বঙ্গবন্ধুর সঠিক মূল্যায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, বঙ্গবন্ধুকে এখনো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। যত দিন যাবে, ততই জাতির জনক সঠিকভাবে মূল্যায়িত হবেন।’

আজ বুধবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টির কথা উল্লেখ করে দুদকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার, সেখানে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ১৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, পাকিস্তানের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরের বেশি, পাকিস্তানের ৬৭ বছর, প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের হার ৯৮ শতাংশ, পাকিস্তানে তা ৭২ শতাংশ। এর মানে কী?’

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, দেশ স্বাধীন না হলে উন্নয়ন হবে না। এখানেই বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা। উন্নয়নের এ অভিযাত্রায় সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে, বাংলাদেশ আজ এসব দেশের কাতারেই থাকত।’

বিজ্ঞাপন

দুদকের চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যদি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, তাহলে তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুর এমন একটি রাজনৈতিক জীবন রয়েছে, যার বিরুদ্ধে তাঁর শত্রুরাও দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারি যে নিজে দুর্নীতি করব না। নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে দুর্নীতি দমনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করব। এটাই হবে জাতির জনকের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সম্মানের নিদর্শন।’

দুদকের কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যখন চিন্তা করি, তখন মানসপটে ভেসে ওঠে একটি তর্জনী, বজ্রকণ্ঠ ও একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত। এর ভাষা হচ্ছে অন্যায়, অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার একটি কণ্ঠ। স্বাধীনতার আগেই এই ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আবার আমাদের জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” এটিও তিনি স্বাধীনতার আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।’

দুদকের নতুন কমিশনার মো. জহুরুল হক বলেন, ‘জাতির জনক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা ছিলেন বলেই ১৯৭৩ সালেই বাংলাদেশ আইটিইউয়ের সদস্যপদ গ্রহণ করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি তিনিই স্থাপন করে দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালেই বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহকেন্দ্র স্থাপন করেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো আশির দশকেই বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারত। যদিও তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে সেই স্যাটেলাইট আমাদের হয়েছে।’
আলোচনা সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জাতির জনকের তিন সন্তানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

দুদকের মহাপরিচালক মো. জহির রায়হানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দুদকের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মহাপরিচালক মো. রেজানুর রহমান, পরিচালক মনিরুজ্জামান খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক কামরুল আহসান, রাজশাহীর উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন