১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর কিছু সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এখন অনেকেই বলেন, বঙ্গবন্ধু ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিষয়টি ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
আগরতলা মামলার ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে গতকাল রোববার আলোচকেরা এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা মূল্যায়ন পরিষদ রাজধানীর তোপখানায় শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এ আলোচনার আয়োজন করে। বক্তারা আগরতলা মামলার সঙ্গে জড়িত ৩৫ জনকে জাতীয় বীর ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, কিছু ব্যক্তির দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আগরতলা মামলাকে মুক্তিযুদ্ধের অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয় না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লবের পরিকল্পনা হয়েছিল। শাসকগোষ্ঠী এটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র বলেছিল। এটি তাদের চাপিয়ে দেওয়া অভিযোগ নয়, সত্য ঘটনা। এ সত্যকে পাঠ্যপুস্তকসহ অন্যান্য মাধ্যমে তুলে না আনলে ইতিহাস বিকৃতিকে জিইয়ে রাখা হবে।
‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’র অন্যতম আসামি সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী বলেন, ‘কিছু জ্ঞানপাপী বলে থাকেন, ছয় দফার কারণে আগরতলা মামলার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই বলতে চান, বিপ্লবী পরিষদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু জড়িত ছিলেন না। তাঁকে জড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটাচ্ছেন।’
শওকত আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেছিলাম। আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক। পরিকল্পনা ছিল, আমরা একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে একযোগে পূর্ব পাকিস্তানের সব কটি সেনানিবাসে কমান্ডো হামলা চালাব। দেশ স্বাধীন করব। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তোরা আগাইয়া যা, আমি আছি। এখন কেউ কেউ বলেন, বঙ্গবন্ধু কি এমন ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকতে পারেন? বলি, আপনি কী জানেন? জানি তো আমি। ষড়যন্ত্র করেছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ষড়যন্ত্র করব না তো কি বসে থাকব?’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আগরতলা মামলার আসামিরা ঐতিহাসিক বীরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁদের মর্যাদা না দিলে ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে।
একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। সাময়িকভাবে বিকৃত করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের ভীত রচনা হয়েছিল আগরতলা মামলা থেকে। আগরতলার মামলাকে স্বীকৃতি না দিলে বঙ্গবন্ধুকে খণ্ডিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’র আসামি আবদুল জলিল, শওকত আলীর স্ত্রী মাজেদা শওকত, মামলা মূল্যায়ন পরিষদের সহসভাপতি নাজনিন হক প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন