default-image

আজ থেকে ৫০ বছর আগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা বাংলাদেশ ও ভারতকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গেঁথে দেয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ৯ মাস বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস, নিষ্ঠুর ও পাশবিক হামলাগুলোর একটির সম্মুখীন হয়, যা কখনোই দেখেনি বিশ্ব। এমন একটি সেনাবাহিনী ও সরকার থেকে এই হামলা চালানো হয়, যেটা তাদের নিজেদের হওয়ার কথা ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং ২ লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হয়। ভয়ানক ওই হামলার মুখে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১ কোটির বেশি শরণার্থী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার এসব শরণার্থীর জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যায় ভারত। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে আনন্দিত হয় প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক। এমনকি মহান এই সংগ্রামে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের জন্য শোক ও শ্রদ্ধা জানাই আমরা।

পাঁচ দশক পরে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে প্রধান অতিথি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটা একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে ঘোষিত মুজিব বর্ষের সমাপ্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যে সম্মান দেখানো হয়েছে, সে জন্য প্রত্যেক ভারতীয় সম্মানিত বোধ করছেন। গত সাত বছরে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব আরও টেকসই, সম্প্রসারিত ও গভীর হয়েছে এবং নতুন উচ্চতায় উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ বিদেশনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতকে বলেছেন ‘আমাদের সত্যিকারের বন্ধু’। বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয়, উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই বাদ যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যেমনটা বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থে একটি ৩৬০ ডিগ্রি পার্টনারশিপ’। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক স্বার্থ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর এই বন্ধুত্বেরই উদ্‌যাপন।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের পর দুই দফা সামরিক একনায়কতন্ত্রের আমলে গুরুতর বৈরী পরিস্থিতি পার করে টিকে রয়েছে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব। সে সময় নতুন করে লেখা হয় ইতিহাস, দায়মুক্তি দেওয়া হয় খুনিদের, বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ সংগ্রামও ভুলে যাওয়া হয়। এটা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃতিত্ব যে এই প্রক্রিয়া এখন শুধু বন্ধই হয়নি, তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঘুরিয়েও দেওয়া হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্প, একনিষ্ঠতা ও জাতির প্রতি অঙ্গীকার এবং জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের কারণে, যেগুলো তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধারণ করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে এবং এর বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ভারতীয় সেনা ও অন্যদের সম্মাননা জানানো হয়েছে এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও সবার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশের শিশুরা এখন সত্যিকার ইতিহাস জানছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের উদ্‌যাপনও হবে। এই ৫০ বছরে বিশেষ করে গত এক দশকে দারুণ গতিতে এগিয়ে চলা এবং অসাধারণ সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষেই গর্ব করতে পারে। বাংলাদেশ এখন আর একটি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) নয়, যেহেতু এই শ্রেণি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি মানদণ্ডই: মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক সাফল্যের সঙ্গে অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের দৃঢ় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ লিঙ্গবৈষম্য নিরসন, বিশেষ করে অর্থনীতি, রাজনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান কমানোয় বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ বিষয়ে অতি সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০তম, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে, যেখানে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫১তম (গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২০, জেনেভা থেকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত)।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তিতে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থাকার অনেক কারণ রয়েছে। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ চালু ছিল, পাকিস্তান সরকার তখন একতরফাভাবে শতাব্দী-প্রাচীন এই ঐতিহ্য বাধাগ্রস্ত করে। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ধারাবাহিকভাবে এসব রেল, সড়ক ও নৌ সংযোগ ফিরিয়ে আনছেন। বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল) অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতির সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে যুক্ত করার ভূকৌশলগত মূল্য বিবেচনায় তা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিমসটেকও একটি কার্যকর প্রচেষ্টা। ২০২১ সালের ৯ মার্চ প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে নির্বিঘ্ন পরিবহন সংযোগ চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি ১৭ শতাংশ এবং ভারতের জিডিপি ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি ভারতের সাবরুমের সঙ্গে বাংলাদেশের রামগড়কে যুক্ত করা ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু, নৌপথে ভারতে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রপ্তানি শুরু এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ির কাছে) ট্রেন চালুর উদ্যোগ বিশেষ উৎসাহব্যঞ্জক। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বহুমুখী অবকাঠামোর সংযোগ দ্রুত, টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়নের জন্য প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

বছরব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সম্মিলিতভাবে মুজিব বর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্‌যাপন দুই দেশের সীমানাও ছাড়িয়ে গেছে। এই উদ্যোগই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বলিষ্ঠ সম্পর্কের সাক্ষ্য দিচ্ছে। খুব সতর্কভাবে গৃহীত অনুষ্ঠানগুলোর জনগণের কাছে জোরালো আবেদন রয়েছে। প্রতিটি দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কাছে তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে শুভকামনা, বন্ধুত্ব এবং অভিন্ন ঐতিহাসিক মূল্যবোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো আমাদের দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে তুলে ধরে।

বঙ্গবন্ধু বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীতে বিংশ শতাব্দীর দুই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও দর্শন এক জায়গায় মিলেছে। দুই নেতাই তাঁদের জাতিকে নিপীড়ক শাসন থেকে মুক্তি এবং স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ঢাকায় প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করবেন। এরপর এটি বাংলাদেশের অন্যান্য শহর, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ এবং সর্বশেষ কলকাতায় প্রদর্শিত হবে। এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনী, ২১টি ডিজিটাল দেয়ালে তুলে ধরা হয়েছে তথ্য। দর্শকের ডিজিটাল সম্পৃক্ততার জন্য রয়েছে শতাধিক পয়েন্ট। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় হচ্ছে এ প্রদর্শনী। এখন পর্যন্ত পাওয়া এক ফ্রেমে বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীর একমাত্র ছবি দিয়ে প্রদর্শনীটি শুরু করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট কলকাতায় একটি রাজনৈতিক সভায় তোলা হয়েছিল ছবিটি। বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষকে একত্র করার ক্ষেত্রে বাপুকে ‘জাদুকর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ভারতের বীরাদ ইয়াজনিক বাংলাদেশের জাতীয় আর্কাইভস, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সহযোগিতায় প্রদর্শনীটি তৈরি করেছেন। এই প্রদর্শনী তরুণ এবং আমাদের অঞ্চলের ইতিহাস জানতে আগ্রহীদের কল্পনা শক্তিকে শাণিত করবে।

বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে একটি বায়োপিক নির্মাণ করছে। উভয় দেশের তারকা অভিনেতাদের নিয়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের নির্দেশনায় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে (কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রায় এক বছর পিছিয়ে গেছে) এ চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

যৌথ অন্য আয়োজনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের পুরো স্থলসীমানাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী (বিএসএফ) আয়োজিত ৬৬ দিনব্যাপী সাইকেল র‍্যালি (মৈত্রী র‍্যালি) সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পনিতোর থেকে এই র‍্যালি শুরু হয়ে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা হয়ে ১৭ মার্চ, ২০২১ বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিনে মিজোরামের শিলচরে গিয়ে শেষ হয়। তিন হাজার কিলোমিটারের এ সাইকেল র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুলশিক্ষার্থীরা স্বাগত জানায়।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেয়। প্রথমবারের মতো ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ আইএনএস কুলিশ ও আইএনএস সুমেধা ৮ থেকে ১০ মার্চ মোংলা বন্দর ঘুরে গেছে। বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব উদ্‌যাপনের খুবই বিশেষ এই বছরে বিভিন্ন আয়োজনের কিছু ছোট নমুনা এগুলো।

সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের প্রতি ভারতের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হয় কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে। ভারতের জনসংখ্যা ১৩৭ কোটি। নিজ দেশের এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়ার চাপ থাকলেও ভারত সরকার ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ (টিকা বন্ধুত্ব) ক্যাম্পেইন চালু করে। এর আওতায় ৭০টির বেশি দেশে টিকা পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের বন্ধু ও প্রতিবেশীদের পিপিই, মাস্ক, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা দেয় ভারত। সর্বশেষ ভারতে উৎপাদিত টিকাও পাঠানো হয়। বাংলাদেশের মানুষের জন্য উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে ভারত সরকার। কোনো একক দেশকে তাদের দেওয়া টিকার মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় চালান। এর বাইরে ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনেছে বাংলাদেশ।

দুই নেতার বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সামগ্রিক ও বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ আসবে। এর মধ্য দিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক ফল ও সিদ্ধান্ত আসবে। তার মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই এবং দুটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারি প্রকল্পের উদ্বোধনের বিষয় রয়েছে। এগুলো নিয়ে মাত্র তিন মাস আগেই, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন আমাদের নেতারা। ঘন ঘন শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা উভয় পক্ষের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে গতি আনতে সহায়ক হয়। এর মধ্য দিয়ে সংলাপের ধারাবাহিকতা, অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে অর্থবহ অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। যেমনটি ঘটেছিল ছিটমহল বিনিময়সহ স্থলসীমান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়া এবং বাকি বিশ্বের জন্য সাফল্যের মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


বীণা সিক্রি: বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন