দুপুরে মেয়ের বিয়ে। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য বাবা বাজার থেকে মাংস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। নিমিষেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় বাবা নুরুল ইসলামের। এ ঘটনা ঘটেছে গতকাল শনিবার নাটোরের লালপুর উপজেলায়।
লালপুর থানা-পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, লালপুরের ইশরপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম (৫০) একজন পল্লি চিকিৎসক। নিজ বাড়িতে তিনি মেয়ে মহুয়া পারভিনের বিয়ের সব আয়োজন করেন। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে বরযাত্রী আসবেন। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য লালপুর বাজার থেকে মাংস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন নুরুল ইসলাম। পথে রামকৃষ্ণপুর এলাকায় সকাল সাড়ে আটটায় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাশেই পড়ে থাকে বাজার থেকে কেনা মাংস। আশপাশের লোকজন তাড়া করে ট্রাকটি আটকে লালপুর থানায় হস্তান্তর করে। তবে চালক ও চালকের সহকারী সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। বিয়ের বরযাত্রী আসার আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর লাশ এসে পৌঁছে বাড়ির আঙিনায়।
নুরুল ইসলামের আকস্মিক এই মৃত্যুতে বিয়েবাড়ির আনন্দঘন পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে শোকের ছায়া নেমে আসে। হাসি, আনন্দ ও গান-বাজনার পরিবর্তে কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও আহাজারি করতে থাকেন। গায়েহলুদের পোশাক পরা মেয়ে মহুয়া পারভিনের বুকফাটা কান্নায় উপস্থিত সবার চোখ ভিজে আসে। লাশের পাশে মহুয়া বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করছিলেন, ‘আব্বা, অ আমার আব্বা, তুমি কেন এত কষ্ট কইরা আমায় লেখাপড়া শিখাইলা। আজ এই দিনে তুমি কেন এমন কইরা চইলা গেলা..।’
খবর পেয়ে বরপক্ষও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করে। তাদের পক্ষের অনেকেই মেয়ের বাবার জানাজায় অংশ নিতে আসেন।
মহুয়ার মামা লিটন আলী বলেন, ‘আমার দুলাভাইয়ের এক ছেলে ও এক মেয়ে। খুব কষ্ট করে মহুয়া পারভিনকে এবার প্যারামেডিকেল থেকে পাস করিয়েছেন। ছেলেটি এবার নবম শ্রেণির ছাত্র। একই উপজেলার বরমহাটি গ্রামের স্নাতকোত্তর পাস এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করা হয়। আজ (শনিবার) বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।’ তবে বরপক্ষ পরে সুবিধাজনক সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন