default-image

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন মৃত্যুর আগেই করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত ছিলেন, দুজনের পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা ‘নেগেটিভ’ এলেও করোনার উপসর্গ বিদ্যমান ছিল, আর বাকি দুজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো আসেনি।

তাঁদের মধ্যে আজ শনিবার মারা গেছেন দুজন। এই দুজনের মধ্যে একজন কোভিড পজিটিভ ছিলেন। অপরজন প্রথমবার পজিটিভ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছিলেন। আজ ভোররাত সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁরা দুজন মারা যান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা থেকে গতকাল শুক্রবার রাত তিনটার মধ্যে এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আরও তিনজন মারা যান। তাঁদের একজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছে। বাকি দুজনের ফল অপেক্ষমাণ।

হাসপাতালের পরিচালক মো. বাকির হোসেন তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ নিয়ে গত ২৮ মার্চ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মোট ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিলেন ৩৫ জন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ ভোররাত সাড়ে পাঁচটায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। একজনের নাম সুনীল কুমার (৫০)। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার এই বাসিন্দা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ৫ জুন দুপুর ১২টায় উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরবর্তীতে নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জুন তাঁর করোনা পজিটিভ আসে। তবে ২৬ জুন ফলোআপ পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁর দ্বিতীয়বার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপরও তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকায় তাঁকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। আজ ভোরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অপর দিকে, আজ ভোররাত সাড়ে পাঁচটায় মারা যাওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তির বাড়ি পিরোজপুর সদরের সেনাখালী এলাকা। সফিকুল ইসলাম (৫০) নামের ওই ব্যক্তিও করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউতে মারা যান। তিনি ২৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার আগে নমুনা পরীক্ষা করার পর ১৩ জুন তাঁর রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে।

এ ছাড়া গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে মারা যান আবুল হোসেন (৫৮) নামের অপর এক রোগী। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ওই ব্যক্তি ৩০ জুন দুপুরে উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। আগেই নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা নেগেটিভ ফল এসেছিল।

গতকাল রাত তিনটার দিকে এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মারা যান আবদুর রব হাওলাদার (৭৩) নামের আরও এক রোগী। ঝালকাঠির সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিতে মারা যান বরিশাল নগরের ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন (৫৫) নামের একজন। বিকেল চারটার দিকে এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান। মারা যাওয়ার পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন