default-image

‘জেল খাল দখল ও দূষণের দায়ভার আমার নয়’—দাবি নিয়ে খাল পুনরুদ্ধারে জনসচেতনতায় নেমেছেন নগরবাসী। বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরের জেল খালের নাজিরের পুল এলাকা থেকে মহাশ্মশানঘাট পুল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় মানববন্ধন ও জনসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেন নগরবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেল খালসহ ২২টি খাল বরিশাল শহরকে জালের মতো জড়িয়ে রেখেছিল। জোয়ার-ভাটার পানি শহরে প্রবেশ করত এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখায় সহযোগিতা করত। সেই খালগুলোর বেশির ভাগই এখন দখল ও দূষণে বিলীন হয়ে গেছে। এ কারণে একটু বৃষ্টি হলেই পুরো শহর জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। অথচ কখনো এই দখলকাজে সাধারণ নাগরিকেরা সম্পৃক্ত ছিলেন না। এটা করেছেন অবৈধ দখলদারেরা। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসন সজাগ থাকলে তাঁরা খালগুলো নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারতেন না।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন খাল পুনরুদ্ধারে নেমেছে। এই কাজে সহযোগিতা দেওয়া নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। সবার উচিত এই কাজে সহযোগিতা দেওয়া। যত দিন খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হবে তত দিন শহরবাসীকে এই কাজে সম্পৃক্ত রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘জেল খালের দুই পাড়ে ১৮২ জন দখলদার আছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়। করপোরেশনে তালিকাও জমা আছে। কিন্তু কী কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানি না।’ তিনি বলেন, ‘এবার সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। আমরা সব খাল দখলমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। কিছু দখলদার ছাড়া সব মানুষ এই উদ্যোগের সঙ্গে আছেন। রাজনৈতিক দলগুলোও চায় খাল পুনরুদ্ধার হোক।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন