বরিশালে ৩ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, আটক ২

বিজ্ঞাপন

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুরের একটি বাড়ি থেকে শাশুড়ি, জামাতাসহ তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুজন আটক আছেন।

বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আহম্মদ আজ রোববার সকালে বলেন, নিহত মরিয়ম বেগমের ছেলে ও বাড়ির মালিক কুয়েতপ্রবাসী আবদুর রবের ভাই সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে মামলাটি করেন। মামলায় কোনো নামধারী আসামি নেই, তবে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পর গতকাল দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পূর্ব রায়পাশা গ্রামের চুন্নু হাওলাদারের ছেলে জাকির হোসেন ও তাঁর সহযোগী মো. জুয়েলকে আটক করা হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এ ঘটনার কিছু আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ। আটক দুজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জাফর আহম্মদ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে কিনা, সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি তিনি।

বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর গ্রাম থেকে গতকাল শনিবার সকালে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁরা হলেন মারিয়াম বেগম, সফিকুল আলম ও মো. ইউসুফ। ঘরের বারান্দায় মরিয়মের, তাঁর জামাতা আলমের মরদেহ বাড়ির অন্য একটি কক্ষে এবং ইউসুফের হাত-পা বাঁধা মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির পুকুরে।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাফেজ আবদুর রব কুয়েতের একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ মা ও বোনের ছেলে ইউসুফ থাকতেন। দুই দিন আগে আবদুর রবের ভগ্নিপতি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আকলম গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সফিকুল আলম তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তিনজনই শুক্রবার রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে মরিয়মের নাতনি কলেজছাত্রী আছিয়া আক্তার (১৭) ঘুম থেকে জেগে পাশে দাদিকে না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে বাড়ির বারান্দায় অচেতন পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে। মরিয়মের পুত্রবধূ (রবের স্ত্রী) ছুটে যান। এরপর চাচি-ভাতিজি মিলে মরিয়মকে শোবার ঘরে নিয়ে যান। আছিয়া তার ফুফা সফিকুলকে ডাকতে তাঁর শোবার ঘরে গিয়ে দেখে তিনিও মৃত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। এরপর বাড়ির সবাইকে ডাকা হয়। কিন্তু ইউসুফকে না পেয়ে সবাই খোঁজাখুঁজি করেন। তাঁর হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পেছনে পুকুরে। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন