default-image

পাজল বা ধাঁধা মেলানো শিশুদের পছন্দের খেলা। এই পাজল মেলাতে মেলাতেই শিশুরা পেয়ে যাবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ লেখাটি। আবার একইভাবে মেলাতে মেলাতে মিলবে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, আমরা তোমাদের ভুলব না। ’ এ ছাড়াও একই পাজলে আছে বাংলা বর্ণমালা। ইংরেজি অক্ষর। বাংলা এবং ইংরেজিতে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যা। উ-তে উট, ঙ-তে ব্যাঙ এগুলোও জেনে যাবে শিশুরা।
শিশুদের জন্য এই পাজল তৈরি করেছেন তৌফিক আজিজ। তৌফিকের কথায়, এটি শুধু পাজল নয়, এটি একটি স্বপ্ন। এ স্বপ্ন তিনি উৎসর্গ করেছেন বিশ্বের সব শিশুর জন্য।
আজ শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারের কাছে তৌফিক আজিজের দেখা মিলল। তাঁকে ঘিরে ধরেছে নানান বয়সী মানুষ। তবে সবার লক্ষ্যবস্তু কিন্তু তিনি নন, সবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে তৌফিক আজিজের তৈরি করা গাড়ি ‘ওয়াচ অব ইনডিপেনডেন্স’। চাকার মাধ্যমে এটি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে। ২১ টি বক্স দিয়ে তৈরি এটি। সবার ওপরে লেখা ‘আমি একুশ বলছি। ’ এই বক্সগুলোর মধ্যে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ, ভাষা শহীদদের ছবি, স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার আছে। এই ওয়াচ অব ইনডিপেনডেন্সের পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে, ট্যাবে যে যার মতো করে সেলফি তুলছেন। অনেকে আবার তৌফিক আজিজের কাছেই ছবি তুলে দেওয়ার জন্য আবদার করছেন।

ওয়াচ অব ইনডিপেনডেন্সেও লেখা আছে, ‘আমার মায়ের পেটের মধ্যে মানুষ গড়ার কারখানা, সেখান থেকে ফুটেছে আজ এই বাংলার বর্ণমালা। ’ আরেক পাশে লেখা আছে, ‘রক্ত অনেক দিয়েছি আর দিতে চাই না, এই পৃথিবীর নতুন মায়ের মুখে হাসি দেখতে চাই। ’

default-image

‘বর্ণমালার ফেরিওয়ালা’ তৌফিক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে অনেকভাবে ২১,৭১ সংখ্যাগুলো বা বাংলা ভাষাকে লালন করে। আমি ২১ টি বক্স দিয়ে যে ওয়াচ অব ইনডিপেনডেন্স তৈরি করেছি তার বুকে আছে ৭১ । বাংলাকে আমি এভাবেই লালন করি। আর নতুন প্রজন্মকে একটু ভিন্নভাবে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত করতে চাই। তারা খেলার ছলেই যাতে এ বিষয়গুলো বুকের মধ্যে ধারণ করতে পারে। আর এই বর্ণমালার পাজল দিয়ে কিন্তু বড়রাও খেলতে পারেন। ’
যশোরের তৌফিক আজিজ ১৯৮৮ সাল থেকে ঢাকায় বসবাস করছেন। একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করছেন তিনি। আর বর্ণমালা ফেরি করার কাজটি করছেন নিজের ভেতরের তাগিদ থেকে। এখন পর্যন্ত এ পাজল সেভাবে ব্যবসার জায়গাটি দখল করতে পারেনি। নিজের দুই ছেলেমেয়ের বন্ধুদের জন্মদিনে উপহার দেওয়া, বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আলপনা প্রকাশনী এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বেশ কিছু পাজল এনেছে। বিক্রিও হচ্ছে। এটি তৈরি করতে সব মিলে খরচ হয় ৪৫ টাকার মতো। ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও মেলায় বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। গতবারও মেলায় এ পাজল বিক্রি হয়েছে।
তৌফিক আজিজের নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ওয়াচ অব নিউ জেনারেশন’। এই প্রতিষ্ঠানের তিনি সমন্বয়কারী। তাঁর বিভিন্ন কাজে স্ত্রী নাদিয়া পারভীন ও ছোট ছোট দুই ছেলেমেয়েও হাত লাগায়। স্ত্রী এবং ছেলেমেয়েরাই ঠেলে ওয়াচ অব ইনডিপেনডেন্স। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আজ স্ত্রী ও বাচ্চারা আসেনি। তৌফিক আজিজকে সহায়তা করছিলেন ঝন্টু মণ্ডল।
তৌফিক আজিজ বলেন, ‘মেজো ভাই শাহেদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এর চেয়েও বড় কথা ছোটবেলা থেকেই সালাম, বরকত বা বীরশ্রেষ্ঠদের কথা ভাবতাম। তাঁরা দেশের জন্য কাজ করেছেন। তাঁদের অবদানের কথা চিন্তা করে নিজে কিছু করতে চাইতাম। তাই নিজের হাতে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তৈরি করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতাম। এভাবেই এ ধরনের কাজে জড়িয়ে গেছি। ’

default-image
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন