অ-তে ‘অজগর ওই আসছে তেড়ে’—ছেলেবেলায় অধিকাংশ মানুষের বর্ণমালার সঙ্গে পরিচয় এভাবেই। এখনকার শিশুরা বর্ণমালা নিয়ে কি একই রকম ভাবে? সেটা দেখতে হলে আজ সকাল নয়টায় চলে যেতে হবে ঢাকায় ধানমন্ডির সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সে কিংবা চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে। জায়গা দুটোয় প্রথম আলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণমেলা।
এ উপলক্ষে সারা দেশ থেকে তিনটি বিভাগে শিশুদের কাছ থেকে আহ্বান করা হয়েছিল বর্ণ। ‘বর্ণ–কারিগর তোমার বর্ণ পাঠাও’ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সী শিশুরা পাঠায় তাদের পছন্দের বর্ণটি। কেউ ‘প্রজাপতি’ দিয়ে বানিয়েছে ‘প’, আবার কেউ ‘প’ বানিয়েছে ‘পয়সা’ দিয়ে। কেউ ‘ঢেঁকি’ দিয়ে ‘ঢ’, ‘চাল’ দিয়ে ‘চ’ করেছে। একজন পানপাতার আদলে কাগজ কেটে তার ওপর ‘সুপুরি’দানা দিয়ে লিখেছে ‘স’, নকশিকাঁথা দিয়ে বানানো হয়েছে ‘ন’। রাজনীতির ছাপ পড়েছে এখানেও। কেউ ‘স’ দিয়ে বুঝিয়েছে ‘সংলাপ’, কেউ সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’। আবার একজন বার্ন ইউনিটে থাকা পোড়া মানুষগুলোকে স্মরণ করে ‘ব্যান্ডেজ’ মোড়ানো পুতুল দিয়ে বানিয়েছে ‘ব’।
গতকাল শুক্রবার শিশুদের পাঠানো বর্ণ থেকে সেরাগুলো বাছাই করেছেন বিচারকেরা। বিচারক হিসেবে ছিলেন শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী, আবদুল মান্নান, সৈয়দ আবুল বারক আলভী, ওয়াকিলুর রহমান ও অশোক কর্মকার। শিল্পীরা বিচারকাজে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বয়স অনুযায়ী শিশুদের চিন্তা এবং তাদের নিজেদের হাতে করা কাজগুলোকে।
আজ বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হবে। প্রদর্শিত হবে শিশুদের পাঠানো বাংলা বর্ণগুলো। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘হাতেখড়ি’ প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে। শিশুদের বর্ণ পরিচয় করিয়ে দিতে বর্ণমেলায় উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য কবি, লেখক, শিল্পী ও শিক্ষাবিদেরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন