উচ্চ আদালাতের নির্দেশ অমান্য করে কক্সবাজার শহরের প্রধান নদী বাঁকখালীতে ময়লা–আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি ভরাট হচ্ছে নদী। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা প্যারাবন।
২ ফেব্রয়ারি দুপুরে শহরের ছয় নম্বর জেটিঘাট, কস্তুরাঘাট ও পেশকারপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভার মালিকানাধীন ট্রাক দিয়ে নদীতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ সময় কথা হয় বর্জ্যবাহী একটি ট্রাকের চালকের সঙ্গে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আগে শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকা দিয়ে নদীতে বর্জ্য ফেলা হতো। কয়েক দিন ধরে কস্তুরাঘাট ও ছয় নম্বর জেটিঘাটের প্যারাবনের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে।
কস্তুরাঘাট ও জেটিঘাট এলাকার লোকজন জানান, নদীর তীরে প্রতিদিন সকাল ও দুপুরে অন্তত ২০ ট্রাক ময়লা ফেলা হয়। এ কারণে নদীতে ১০টিরও বেশি ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে নৌপথ। পাশাপাশি নদীর তীরের মাটির ওপর আবর্জনা ও পলিথিনের স্তর জমা হওয়ায় কেওড়া ও বাইনগাছের প্যারাবন মরে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী ইকবাল কবীর জানান, বাঁকখালী নদী রক্ষায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেলার পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদীর বর্জ্য ফেলা বন্ধসহ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। গত ৬ জানুয়ারি ওই রুলের শুনানিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজার পৌর মেয়রকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, শহরের বাসাবাড়ির ময়লা–আবর্জনা ফেলার জন্য রামুর চাইন্দা এলাকায় জমি কেনা হয়েছে। আগে বাঁকখালী নদীতে শহরের বর্জ্য ফেলা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পরও কেউ নদীতে বর্জ্য ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঁকখালী নদীর দূষণ রোধে সোচ্চার পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি শহরের কস্তুরাঘাটে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা), কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন এবং কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ। এ ব্যাপারে পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা জানান, নানা আন্দোলন–সংগ্রাম করেও বাঁকখালী রক্ষা করা যাচ্ছে না। ময়লা–আবর্জনা নিেক্ষপ করায় নদীর তীরের প্যারাবন মরে হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।
তীর দখল হয়ে যাওয়ায় নদীতে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বেড়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার শহরের বাংলাবাজার থেকে নুনিয়াছটা প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকার নদীতীর দখল হয়ে পড়েছে। ময়লা–আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এসব স্থানে। ফলে ডুবোচর সৃষ্টির পাশাপাশি গড়ে উঠছে অসংখ্য চিংড়িঘের, লবণ উৎপাদনের মাঠ, নৌযান মেরামতের কারখানা (ডকইয়ার্ড), ময়দা ও বরফ কলসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি। এসব উচ্ছেদ করা না গেলে নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হবে না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন