default-image

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম গত সোমবার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোথাও বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হতে দেখা যায়নি। এলাকা ও কোম্পানিভেদে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। এটি ৯৭৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।

খুচরা দোকানিরা বলছেন, তাঁরা আগেই বেশি দামে কিনেছেন। এখন কোম্পানিগুলো দাম না কমালে নির্ধারিত দামে তাঁদের পক্ষে বিক্রি করা সম্ভব নয়। আর এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিইআরসি যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে পারেনি। তাই দোকানিরা মানছেন না।

গত সোমবার এলপিজির নির্ধারিত দাম ঘোষণা করে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি। সে অনুযায়ী রান্নার জন্য বেসরকারি খাতের ১২ কেজির সিলিন্ডার ৯৭৫ টাকা ও ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৬৫৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। আর যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারের দাম ৪৭ দশমিক ৯২ টাকা। এ ছাড়া সরকারি খাতের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৯১ টাকা।

গতকাল ঢাকার মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলায় এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির খুচরা দোকানে খোঁজ নেওয়া হয়। দোকানিরা জানান, বসুন্ধরা, ওমেরা ও টোটাল গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার তাঁরা কিনেছেন ৯৭৫ থেকে ১ হাজার টাকায়। কোনোভাবেই তাদের পক্ষে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদপুরের রিংরোডের মোল্লা এন্টারপ্রাইজে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ৫০ টাকায়। বাসায় পৌঁছে দিলে আরও ৫০ টাকা বেশি। দোকানি জানান, সিলিন্ডার আগে কেনা। কোম্পানি দাম কমালে তারাও কমাবে।

গাড়ির জন্য প্রতি লিটার এলপিজির দাম ৪৭ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। তবে গতকাল রাজধানীর দুটি এলপিজি স্টেশনে দেখা যায়, ৪৫ টাকা লিটার বিক্রি করছে তারা।

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় খুঁজে সরকারি কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। শহরের এস এন এন্টারপ্রাইজ জানায়, ১২ কেজির টোটালগ্যাস ১ হাজার ১০০ টাকা, বসুন্ধরা ও ওমেরা ১ হাজার ৫০ টাকা এবং অন্যগুলো ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

* ৯৭৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১০০ টাকায়। * এলাকা ও কোম্পানিভেদে দামের পার্থক্য আছে।

লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হয় ১২ কেজির সিলিন্ডার। নোয়াখালীতে কোম্পানিভেদে দাম ছিল ৯৭৫ থেকে ১ হাজার টাকা।

দুটি এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানির দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা দাবি করেন, বিইআরসি যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে পারেনি। তাই দোকানিরা মানছেন না।

ওমেরা এলপিজি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদন পর্যায়ে সিলিন্ডারপ্রতি খরচ কম ধরা হয়েছে, পরিবেশকের কাছে পৌঁছানোর পরিবহন খরচ ধরা হয়নি এবং উৎপাদনকারী কোম্পানির কোনো মুনাফার সুযোগ রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘোষিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না যাচাই করে দেখা হবে।’ ব্যবসায়ীদের আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবার উপস্থিতিতে আলোচনা করেই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরও কোনো আপত্তি লিখিতভাবে জানালে কমিটি যাচাই–বাছাই করে কমিশনে উপস্থাপন করবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন