default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের পুরোনো সিনেমা হলের উত্তর পাশে ঢোলভাঙ্গা নদী দখল করে আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে মাটি ভরাট করছেন বিল্লাল হোসেন ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই ব্যক্তি। নদীর ভেতরের ওই জমি তাঁরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন বলে দাবি করেছেন।
আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাটি ভরাট করার জন্য নদীর প্রস্থ অনেক কমে গেছে। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে বোরো জমিতে সেচকাজ এবং বর্ষাকালে নৌযান চলাচল ব্যাহত হবে। পাঁচ-ছয় দিন ধরে বিল্লাল ও মোহাম্মদ আলী নদীর জায়গায় মাটি ভরাট করছেন বলে স্থানীয় অনেকে জানান।
সদর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ও স্থানীয় লোকজন জানান, তিতাস নদের উপজেলা সদরের থানাসংলগ্ন এলাকা থেকে উপশাখা হিসেবে ঢোলভাঙ্গা নদীটি শুরু হয়েছে এবং সদর ইউনিয়ন হয়ে মেঘনায় পড়েছে। ছোট এই নদীটির দুই পাশে কয়েক হাজার একর বোরো ধানের জমি রয়েছে। ওই নদীর পানি দিয়ে এসব জমিতে সেচ দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার উপজেলা সদরের পুরোনো সিনেমা হলের উত্তর পাশে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশগাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন শ্রমিক মাটি ফেলে নদীর জায়গা ভরাট করছেন। শ্রমিকেরা নদীর ভেতরে দেওয়া বাঁশের বেড়া পর্যন্ত মাটি ফেলছেন।
বাঞ্ছারামপুর গ্রামের কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, ‘এইভাবে নদী দখল কইরা ভইরা ফালাইলে নদী আর থাকব না, আর নদীডা শুকাইয়া গেলে বোরো ধান চাষ করনের লাইগ্যা আর পানিও পাওন যাইব না।’
নদীর জায়গা ভরাট করার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা ১১৩৯ দাগে ২৮ শতক জমি কিনা নিছি, যে টুকু ভরাট করতাছি তার পরেও ১০ শতক জায়গা নদীর ভিতরে পামু, আমার কথা বিশ্বাস না হলে জায়গা মাইপা দেখেন।’
বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পাচ-ছয় দিন ধইর‌্যা ভরাট করতাছি, নায়েব সাহেব আমাদেরকে কোনো বাধা দেননি। কিন্তু তিনি জায়গা মাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন।’
বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, তিনি নদী দখল করে মাটি ভরাট বন্ধ এবং বাঁশের বেড়া তুলে ফেলতে বলেছেন বিল্লাল হোসেন ও মোহাম্মদ আলীকে। ভরাট বন্ধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন