বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘মানবিক হস্তক্ষেপ’

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ নতুন নয়। কিন্তু এটা নতুন যে বর্তমান যুদ্ধ বেধেছে দেশটির প্রধান জনগোষ্ঠী বামারদের (মিয়ানমারের প্রধান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী) ঘরে। ‘তাতমাদৌ’ নামে পরিচিত সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রধান রাজনৈতিক শক্তি অং সান সু চির এনএলডি—উভয়ই বামারদের প্রতিষ্ঠান। এত দিন তাদের দাপটে ছোট জাতিগুলো গেরিলাযুদ্ধে নেমে আত্মরক্ষা করত। এখন খোদ বামাররা পরস্পর অস্ত্র হাতে মুখোমুখি। বামারদের কাছে তাতমাদৌ অতীতে ছিল গর্বের ধন। সেই বাহিনীর কারণেই এখন তাদের দুরবস্থা।

সু চি অহিংস রাজনীতির বিশ্ব মডেল ছিলেন একদা। কিন্তু ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাঁকে জেলে পুরে রাখার পর এনএলডি কর্মীদের সামনে সশস্ত্র সংগ্রামই পথ হয়ে উঠেছে। এনএলডির বাইরের অনেক তরুণ-তরুণী দেশি বন্দুক হাতে গণতন্ত্র উদ্ধারে নেমেছে। ক্যুর আগে জেনারেলরা এত ব্যাপক সামাজিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবেননি।

ছোট ছোট জাতির সঙ্গে তাতমাদৌর সংঘাতে দেশটির চারপাশ বহুকাল রণক্ষেত্র আকারে আছে। এখন বামারদের মধ্যাঞ্চলে জ্বালাও–পোড়াও চলছে প্রতিদিন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মীদের গাড়িতে রেখেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে বড় বড় শহরে দোকানপাট-বিনোদন কেন্দ্র খোলা রাখার জন্য জান্তার তরফ থেকে চাপও আছে। স্বাধীনতার পর এ রকম বিপন্ন দশা আর দেখেনি এখানকার মানুষ। ‘সিডিএম’ (সিভিল ডিস–অবিডিয়েন্স মুভমেন্ট) নামে পরিচিত বেসামরিক বয়কট আন্দোলনের রেশ এখনো শেষ হয়নি। সঙ্গে আছে আন্তর্জাতিক অবরোধ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশটির বৈধ-অর্থনীতি ২০ ভাগ সংকুচিত হয়ে গেছে এক বছরে। আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির নেতিয়ে পড়া অবস্থায় বাড়ছে চোরাই কারবার। চোরাই অর্থনীতির নবতরঙ্গে মাদক আছে একেবারে ভরকেন্দ্রে।

দেশটির আত্মবিনাশী এই গৃহযুদ্ধে এই অঞ্চলের জোট ‘আসিয়ান’ কিছুই করতে পারেনি। উল্টো যা ঘটছে, জনতার বিরুদ্ধে গুলি চালাতে জেনারেলরা রসদ পাচ্ছেন চীন-রাশিয়ার কাছ থেকে। অস্ত্র বিক্রি প্রাথমিক লক্ষ্য হলেও ‘মিয়ানমারকে রক্ষা’ চীনের দিক থেকে দরকারি এক ভূরাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু যে ১৪টি দেশের সঙ্গে চীনের সীমান্ত, তার মাঝে মিয়ানমারই ‘আন্তর্জাতিক মানবিক হস্তক্ষেপের’ জন্য সবচেয়ে উপযোগী হয়ে উঠছে।

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত প্রতিবেশী দেশটি যে বিপুল উদ্যমে অস্ত্র কিনছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই ভালো খবর নয়। ২১ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করলেন আবারও। এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে, কিন্তু সেই দুর্ভোগের ভাগ বইতে হচ্ছে বাংলাদেশকেও। আবার পুরোনো শরণার্থীদের সংসার থেকে প্রতি বছর ২৫ হাজার নতুন শিশুর দায় নিতে হচ্ছে ঢাকার সরকারকে। কক্সবাজার ইতিমধ্যে ক্লান্ত।

‘ঠান্ডাযুদ্ধ’

বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমার ২০১৭ সাল থেকে মাথাব্যথার বড় কারণ। সেই সংকট পঞ্চম বছরে আরও গুরুতর উদ্বেগ আকারে হাজির হয়েছে। যুদ্ধ আপাতত গুণগতভাবে প্রাথমিক স্তরে আছে। উন্নত অস্ত্রধারী তাতমাদৌকে মোকাবিলায় তরুণদের সম্বল দেশি অস্ত্রপাতি। তবে রাস্তাঘাটে বিস্ফোরকের ব্যবহার এবং জান্তার সমর্থকদের চোরাগোপ্তা খুন বাড়ছে, যা দেশটিকে ক্রমে ব্যর্থ রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরে আর্থসামাজিক-প্রশাসনিক কাঠামো আরও ভেঙে পড়বে বলেই অনুমান অনেকের।

বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় উদ্বেগের দিক হলো মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ দুই যুদ্ধাঞ্চল—চিন ও আরাকান প্রদেশ তার সীমান্তসংলগ্ন। এর মাঝে আরকানের অবস্থা রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরা কঠিন করে তুলছে।

তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র-গণ চীন দ্বন্দ্বে শক্তি পরীক্ষার একটা জায়গা হয়ে উঠছে মিয়ানমার। ওয়াশিংটন-বেইজিং ঠান্ডা যুদ্ধ যত বাড়ছে, মিয়ানমারে তার আঁচ লাগছে। ২০২২ সালে কথিত এই ঠান্ডা যুদ্ধের মিয়ানমার-ফ্রন্ট ঠান্ডা থাকবে না বলেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের উপলক্ষ করে এটা হতে পারে, এমন নয়। নিজ জনগণের বিপক্ষে তাতমাদৌর নির্বিচার জ্বালাও-পোড়াও নীতির কারণেও তা হতে পারে। বাড়তি বহু ‘প্রক্সি’র ব্যবহার ঘটতে পারে। হয়তো ঘটছেও। অপ্রস্তুত অবস্থায় রোহিঙ্গা শিবিরে মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা দেখেছি আমরা।

মিয়ানমারকে ঘিরে উদীয়মান উত্তেজনায় বাংলাদেশ এত দিন মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এলেও ক্রমে তার পছন্দের জায়গা কমছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নানান ধরনের অসামরিক শক্তি সমাবেশ ঘটাচ্ছে এই অঞ্চলকে ঘিরে। আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে পালাবদলের আলামতও অস্পষ্ট নেই আর। গত ৫০ বছর বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে চালকের আসনে আছে ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্ক। আমরা দক্ষিণ দিক থেকে এত বেশি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলাম যে ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকাল আর একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও খুঁজে পাওয়া যায় না। সফল কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং দু-তিনজন এনজিও সংগঠকের যোগাযোগ ছাড়া মিয়ানমারে বাংলাদেশের প্রায় কিছু নেই। অথচ ইতিহাস টেনে এনেছে সম্পূর্ণ নতুন এবং অভাবনীয় এক পরিস্থিতি।

নতুন ‘পলিটিক্যাল সেন্টার’?

বাংলাদেশের ব্যথা-বেদনা আরাকানকেন্দ্রিক হলেও বান্দরবানসংলগ্ন চিন প্রদেশের পরিস্থিতি এ মুহূর্তে বেশি উত্তপ্ত। গত এক বছরে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার চিন। চিন থেকে কেবল ভারতে ১৮ হাজার শরণার্থী এসেছে ২০২১ সালে। রোহিঙ্গা ঢুকলে আটক করা হয় বটে, কিন্তু চিন থেকে যারা আসছে মিজোরামে আশ্রয় পেতে তাদের তেমন ভোগান্তি হচ্ছে না। এর কারণ ধর্মীয় ও জাতিগত ঐক্য। পরস্পরকে ‘ভাই’ মনে করে এরা।

মিয়ানমারে চিন একমাত্র খ্রিষ্টানপ্রধান প্রদেশ। চলতি গৃহযুদ্ধে সেখানে বেশি বোমা পড়ার এটাই হয়তো প্রধান কারণ। চিনের এই দুর্দিনে ক্ষোভ বাড়ছে খ্রিষ্টান–অধ্যুষিত মিজোরাম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডে। তাতমাদৌর যুদ্ধকৌশল ওই অঞ্চলের খ্রিষ্টানদের এভাবে নীরবে এক কাতারে দাঁড় করাচ্ছে। ৪ ডিসেম্বরে আসাম রাইফেলসের হাতে ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক খুনের পর নাগা খ্রিষ্টানদের ধারাবাহিক আন্দোলন দেখা যাচ্ছে একই সময়।

চিনে যারা মরছে, মিজোরামে যারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, এরা সবাই বৃহত্তর ‘জোমি’ জাতিসত্তা। যারা আছে রাঙামাটিসহ সীমান্তের এদিকেও। এ অস্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। পুরো এলাকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার-ভারতের সংযোগস্থল। এটা এমন এক ‘নার্ভ-সেন্টার’, যা মিয়ানমার বিষয়ে আন্তরাষ্ট্রীয় ‘পলিটিক্যাল-সেন্টার’ (রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র) হয়ে উঠতে পারে। এসব ঢাকার বাড়তি মনোযোগ দাবি করছে। মিয়ানমারে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউর রহমান একসময় চিন প্রদেশে বাংলাদেশের ‘গণসংযোগ’ বাড়ানোর যে আকাঙ্ক্ষা ও উদ্যোগে ছিলেন, সেটার পুনরুজ্জীবন জরুরি এখন। ২০১৮ সাল থেকে সে কাজ আর এগোয়নি। চিনদের সঙ্গে মিজোদের সঙ্গে নিয়ে সে কাজ এগোতে পারে। এসব অঞ্চলের আসন্ন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষেÿচোখ বন্ধ করে রাখা কঠিন।

চিনের আরেক গুরুত্ব—এখানকার পাহাড়ের তলদেশে অতিমূল্যবান খনিজ থাকার গল্প আছে লোকসমাজে। অথচ এই পুরো জনপদে অবিশ্বাস্য দারিদ্র্য। দারিদ্র্যবিরোধী সংগ্রামের কিছু উপায় ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ জোমিদের দিতে পারে বৈকি।

পুরোনো গেরিলা দল চীন ন্যাশনাল আর্মির সহায়তায় গত এক বছরে এখানে তাতমাদৌর বিরুদ্ধে নেমেছে চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স নামের বাহিনী। বিভিন্ন শহরতলিতে এ রকম ‘ডিফেন্স ফোর্স’গুলো গড়ে উঠেছে ফেব্রুয়ারির ক্যুর পরপর। আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিনের বিপুল প্রবাসী আছে। অর্থকড়ি পাঠিয়ে তারাও নানানভাবে প্রতিরোধযুদ্ধে শামিল হচ্ছে ধীরে ধীরে। এর মাঝেই অন্তত দুটো শহরতলি আগুনে ছাই করে দিয়েছে তাতমাদৌ। তারপরও সু চির সরকারের নেতাদের একাংশ চিন-মিজোসীমান্ত আছে এখন। মিয়ানমারের ক্ষমতার যুদ্ধ এভাবে বাংলাদেশের থানচির গায়ে লাগার উপক্রম।

চিনের তুলনায় আরাকানের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাতমৌদাকে চ্যালেঞ্জ করে আছে আরাকান আর্মি। কেউ কারও বিরুদ্ধে আপাতত গোলাবারুদ ছুড়ছে না। কয় দিন আগেই প্রথম আলোতে আরাকান আর্মির প্রধান জেনারেল নাইংয়ের সাক্ষাৎকার ছাপা হলো। তাতে স্পষ্ট স্বীকৃতি আছে, কেবল ৩০ হাজারের বিশাল বাহিনী নয়, প্রদেশটি জুড়ে তারা বেসামরিক প্রশাসনও কায়েম করতে নেমেছে। এর অর্থ, কেবল তাতমাদৌ নয়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আরকান আর্মিকেও আস্থায় নিতে হবে।

আরাকান আর্মি ও তাতমাদৌর মাঝে যুদ্ধবিরতি চললেও উভয়ে তারা পরস্পরের বিনাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য বড় যোগাযোগ চ্যালেঞ্জ ‘লোকাল কন্ডিশন’ বা মাঠের পরিস্থিতি জেনে-বুঝে সুচিন্তিত অবস্থান নিতে পারা। সেটা জরুরি সমগ্র দেশের স্বার্থে; বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্যও।

দর-কষাকষি

কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে হাঁটলে রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের নীরব অনিশ্চয়তা ধরা পড়ে। সেখানে বসবাসকারীদের জীবনযাপন সহজ ও আরামদায়ক করতে নানান ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠছে। হচ্ছে ব্রিজ, রাস্তা, পানি সরবরাহব্যবস্থাসহ আরও অনেক কিছু। এটা অবশ্যই বাংলাদেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মানবিক দায়। গণহত্যার দায়ে তাতমাদৌর জেনারেলদের বিচারপ্রক্রিয়াতেও ভালো অবদান রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিগত চার বছরের উপসংহার হিসেবে যা মিলছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে কোনো প্রাপ্তি নেই। দৃশ্যমান কোনো আলোচনাও নেই।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের থাকার ভালো ব্যবস্থা করার চেষ্টায় থাকলেও তাদের মাঝে শিক্ষিত একটা প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে এগোয়নি। ওই রকম শিক্ষিত রোহিঙ্গারা নিজেদের সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথাবার্তা বলতে পারত, যা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সহায়ক হতো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব উচ্চশিক্ষিত রোহিঙ্গা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে, তারাও ঢাকায় কোনো আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি আজও। রোহিঙ্গা সংকটের ভেতরকার ‘সম্ভাবনার দিকগুলো’ বাংলাদেশ খতিয়ে দেখেছে হয়তো কমই।

রোহিঙ্গা প্রশ্নে ২০২১ সালে বাংলাদেশের বড় অপ্রাপ্তির দিক, বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের বেদনাদায়ক অসহযোগিতা, নির্লিপ্ততা। কিন্তু বাংলাদেশ কি এ থেকে কিছু শিখেছে? কৌশল পাল্টাবে?

মিয়ানমারে গণচীন ও ভারতের স্বার্থ ও সম্পৃক্ততা বহুমাত্রিক। চীন সেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে অন্তত অর্ধডজন সশস্ত্র সংগঠনেরও ‘বন্ধু’। চীনের অস্ত্রেই উভয়ে তারা লড়ে! অন্যদিকে, অরুণাচল, মণিপুর, মিজোরামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সুরক্ষায় নেপিডোর সমর্থন নয়াদিল্লির জন্য বরাবরই জরুরি। মিয়ানমারের এই দুই প্রধান বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার পাওয়ার আশা সংগত কারণেই ফল দেয়নি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ কী করবে? সে প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতে হবে ২০২২ সালে। বাংলাদেশের হাতে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দর-কষাকষির কোনো কিছু আছে বলে এখনো মনে হয় না। নির্মমতায় ও কূটকৌশলে কুখ্যাত তাতমাদৌর সঙ্গে তাহলে কীভাবে বোঝাপড়ায় আসা যাবে?

আগ্রহ ও অভ্যাসের বদল হবে?

কেবল যুদ্ধবিদ্যা নয়, ভূরাজনৈতিক হিসাব–নিকাশেও তাতমাদৌ সিদ্ধহস্ত। কিন্তু এ রকম পণ্ডিতদেরও ভুল হয়। সেই ভুলই করেছে তারা সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। আন্তর্জাতিকভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে তারা এখন। তবে এর জেনারেলরা সিদ্ধান্ত পাল্টাতে তুখোড়।

তাদের জন্য কিছুটা চাপ কমানোর একটা সুযোগ হলো বাংলাদেশকে নাটকীয়ভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া। এমন একটা অনুমান আছে চারদিকে। কিন্তু গত দু-তিন বছরে আরাকান আর্মির অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি আরাকানের দৃশ্যপট অনেক বদলে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হলে এখন তাদেরও আন্তরিক আগ্রহ ও সম্মতি দরকার। না হলে দীর্ঘ মেয়াদে এসব প্রত্যাবর্তন আবারও ২০১৭ সালের জন্ম দেবে মাত্র। বড় বিষয়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যার চেয়েও বড় এক সংকট বাংলাদেশের সামনে এসে গেছে। এই সংকটের ভেতরকার সম্ভাবনার দিক হলো মিয়ানমারের পথ বেয়েই কেবল বাংলাদেশ আসিয়ান পরিমণ্ডলে দাঁড়াতে পারে।

প্রশ্ন হলো, ২০২২ কি বাংলাদেশকে আগ্রহ ও মনোযোগের পুরোনো অভ্যাস থেকে বের করে আনতে পারবে? এ বছরটি দেশটির সাধারণ কোনো বছর নয়! ক্রিকেট মাঠে অবশ্য ‘হাফ সেঞ্চুরি’ পেরোনো মাত্র বোলারদের নতুন কিছু বলে ব্যাটসম্যানরা!

আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন