সারদা কেলেঙ্কারির টাকা বাংলাদেশের কথিত সন্ত্রাসীদের হাতে গেছে, এমন কোনো তথ্য সিবিআই তদন্তে উঠে আসেনি। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং গতকাল বুধবার লোকসভায় এক লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানান। 
মাত্র কদিন আগে কলকাতায় এক জনসভায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, সারদার টাকা খাগড়াগড় বিস্ফোরণের হোতাদের কাছে গেছে। এই টাকা বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের সাহায্য করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দারা একযোগে এই বিস্ফোরণের তদন্ত করছে। এই বিস্ফোরণের সঙ্গে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের যোগ আছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ।
জিতেন্দ্র সিংয়ের এই বিবৃতি তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে একটা বড় হাতিয়ার তুলে দিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি এ নিয়ে সরগরম।
লোকসভায় বিজেপি ও জনতা দলের (সংযুক্ত) দুই সাংসদ প্রহ্লাদ জোশি ও হরি মানঝির প্রশ্ন ছিল, সারদার টাকা বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের হাতে গেছে কি না, গেলে সিবিআইর তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে। জবাবে জিতেন্দ্র বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রীর জবাব দেখেই তৃণমূল সাংসদেরা বিজেপির সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। গত রোববার কলকাতায় এক জনসভায় বিজেপি সভাপতি এই যোগসাজশ নিয়ে যে কথা বলেছিলেন, তা অসাড় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে জানান তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ বিজেপির চক্রান্তের উপযুক্ত জবাব দেবে।
যদিও এটা ঠিক যে সংসদের সব লিখিত প্রশ্ন অন্তত ২০ দিন আগে জমা দিতে হয়। সেই উত্তরও তৈরি হয় অন্তত ১৫ দিন আগে।
বিজেপি অবশ্য ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে নেমেছে। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ক্লিন চিট পেয়ে গেল মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তা ছাড়া এই উত্তর অনেক আগে তৈরি। বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই উত্তর তৈরি করে থাকেন। তদন্ত শেষ হলেই বোঝা যাবে সারদার সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গিদের যোগসাজশ ছিল কি না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0