৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, প্রথম আলো ও বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসা: সামর্থ্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।

default-image

আলোচনার সুপারিশ
* সিগারেটের ধেঁায়া ও গাড়ির কালো ধেঁায়া ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম কারণ, এ থেকে বিরত থাকতে হবে
* তামাক, জর্দা, সাদা পাতা ও বেশি চর্বি–জাতীয় খাবার কণ্ঠনািল ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁিক বাড়ায়
* দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। এতে ৩০ শতাংশ ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়
* নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা করলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হয়
* মধু, কালিজিরা, টেমটো, বাঁধাকপি, লেবু, ভিটামিন এ, সি, ও ই সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল ক্যানসার প্রতিেরাধ করে

আলোচনা 

আব্দুল কাইয়ুম: দেশে-বিদেশে দিন দিন ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে, তাহলে ক্যানসার রোগীর প্রকৃত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দেশেই যদি চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে, সে ক্ষেত্রে রোগীরা বিদেশে যাবে না। এসব বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এখন আলোচনা করবেন মোয়াররফ হোসেন।

default-image

মোয়াররফ হোসেন: প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার ধরা পড়লে অধিকাংশ রোগী ভালো হয়। পুরুষের ফুসফুস ক্যানসার বেশি  হয় সাধারণত ধূমপানের জন্য। নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ও জরায়ুর ক্যানসার বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, ২০৩০ সালে বিশ্বে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা হবে দ্বিগুণ। এর অধিকাংশ ক্যানসারই হবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের। তাই আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে নয়টি রেডিওথেরাপি কেন্দ্র চালু আছে। ক্যানসার চিকিৎসার সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি—এই  তিনটি ধাপ রয়েছে। দেশের সব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি না থাকলেও সার্জারি ও কেমোথেরাপি দেওয়ার সুযোগ আছে। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট শুরুতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ছিল। বর্তমান সরকার এটি বাড়িয়ে ৩০০ শয্যা করেছে। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী বহির্বিভাগে দেখা হয়।

আমাদের হাসপাতালে সন্ধ্যাকালীন সেবা চালু করা হয়েছে। বীকনের মতো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করায় বাজারে এ ওষুধের দাম কমেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্যানসার চিকিৎসায় অনেক এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।  

default-image

মো. এবাদুল করিম: আজকের অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্বনামধন্য ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত আছেন। তাঁরা বাংলাদেশে ক্যানসারের অতীত-বর্তমান সবই জানেন।
আজ থেকে ১০ বছর আগে কোনো দরিদ্র মানুষের ক্যানসার ধরা পড়লে সাধারণত তাকে জানানো হতো না। কারণ, তখন ওষুধের দাম ছিল অনেক বেশি। এই ব্যয়ভার দরিদ্র মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। আমর​াই প্রথম বাংলাদেশে ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করছি। বাজারে এখন ক্যানসারের ওষুধের দাম অনেক সহজলভ্য হয়েছে।
একসময় ক্যানসার সম্পর্কে বলা হতো, ‘ক্যানসার হ্য​​াজ নো আনসার’। বাংলাদেশ ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বীকন ফার্মা বাজারে আসার আগে বহুজাতিক কোম্পানির ​একটি ২০ মিলিগ্রামের

ডসি​ট্যাক্সেলের ও ১৫০ মিলিগ্রামের আরলোটিনিব ট্যাবলেটের দাম ছিল যথাক্রমে ১৩ হাজার ৫৪৪ টাকা ও ছয় হাজার টাকা। আমরা বাজারে এ ওষুধ আনার পর তারা  দাম কমিয়ে যথাক্রমে ৬ হাজার ৫০০ টাকা ও ৩ হাজার ২০০ টাকায় নির্ধারণ করে। কিন্তু বীকনের তৈরি একই মানের ওষুধের দাম যথাক্রমে তিন হাজার টাকা ও মাত্র ৭০০ টাকা।

এমন অনেক ওষুধ আছে, যার মূল্য আমরা ১০ গুণ কমিয়ে এনেছি। আমাদের ওষুধের মানও পরীক্ষিত। এখন  ক্যানসারের ওষুধ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এসেছে। পোশাকশিল্পের মতো ২ শতাংশ সুদে ঋণ পেলে আমাদের ওষুধ তৈরি শিল্প অনেক এগিয়ে যাবে।

default-image

হাজি মোহাম্মদ আলি: ২০০৯ সালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। খুব ভয় পেয়েছিলাম। তারপর ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা আমাকে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়েছেন। ডাক্তারদের সব ধরনের নির্দেশ মেনে চলেছি। এখন আমি ভালো আছি। আমাকে যিনি দেখেছেন, তাঁর ব্যবহার খুব ভালো ছিল। বাংলাদেশ ক্যানসার চিকিৎসায় বেশ উন্নতি করেছে বলে মনে করি। ওষুধের দামও কম। এটা আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে। শুরুতে ক্যানসার ধরা পড়লে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে ক্যানসার ভালো হয়। আমি আমি ভালো আছি।

default-image

এস কে গোলাম মোস্তফা: এখন বিশ্বে ৩ কোটি ৫০ লাখ ক্যানসার রোগী আছে। ক্যানসার চিকিৎসায় নিজের প্রচেষ্টা লাগে। ডাক্তারের সহযোগিতা ও রাষ্ট্রের সামর্থ্য লাগে।
দেশে সরকারি ১৫টি ও বেসরকারি ছয়-সাতটি হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসার প্রায় পূর্ণ সুযোগ আছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে চারটি লিনাক অ্যাকসিলারেটর ও দুটি কোবাল্ট মেশিন আছে। একটি হাসপাতালে এত মেশিন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও নেই।
তারপরও সবাইকে চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হয়। কারণ, রোগীর চাপ অনেক বেশি। ক্যানসার খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে। শুরুতে হাসপাতালে এলে প্রায় সব ক্যানসার রোগীকে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হলো রোগীর ভিড়ে সিরিয়াল পেতে এক থেকে দেড় মাস অপেক্ষা করতে হয়। বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালে অনকোলোজিস্ট আছেন। শুধু একটা করে লিনাক ও কোবাল্ট মেশিনের ব্যবস্থা করতে পারলে  রোগীর চাপ অনেক কমে আসবে। বাংলাদেশে পুরুষদের ফুসফুস ও মেয়েদের স্তন ক্যানসার হয় সবচেয়ে বেশি। তবে একটা ভালো খবর হলো, বাংলাদেশে এখন স্তন ক্যানসারে স্ক্রিনিং হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

default-image

মো. হাফিজুর রহমান আনসারী: ১৯৪৬ সালে প্রথম চিকিৎসা শুরু করেন মেজর ডব্লিউ এইচ আলিসন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ধীরে ধীরে এ চিকিৎসা এগিয়েছে। কিন্তু এখনো আমাদের সমস্যা অনেক। ক্যানসার চিকিৎসার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে আমাদের কোথায় কী প্রয়োজন, সেটা জানা যায় না। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহ করি। তারপর বলি এই নেই, এই প্রয়োজন। এভাবে চলতে পারে না।  অন্যান্য রাষ্ট্র যেখানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে গঠনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা তাদের মতো উন্নতি করতে পারছি না। আমাদের কোনো রেগুলেটরি অথোরিটি নেই।
ক্যানসারকে কখনো অগ্রাধিকার তালিকায় আনা হয়নি। ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মান ঠিক আছে কি না, এ ওষুধ কীভাবে যাচাই করা হয়—এসব জানতে পারি না। রোগীরা বাংলাদেশি ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন করে।

default-image

আজিজুল ইসলাম: বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি মাসে সিএমএইচে ১০৬ জন রোগী ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আসে। ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি ছাড়া আর বাকি সবকিছু দেশীয় সম্পদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা সম্ভব।
দেশের হাসপাতালগুলোয় ক্যানসার বিভাগ তৈরি করা, বিশেষজ্ঞ তৈরি করা ও দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে ৯৯ শতাংশ ওষুধ তৈরি করা প্রয়োজন। ২০০৯ সাল থেকে দেশীয় কোম্পানিগুলো ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতে সাফল্য অর্জন করছে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশেও ক্যানসারের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।
অচিরেই আমাদের হাসপাতালে রেডিওথেরাপি মেশিন সংযোজন করা হবে। বাইরের রোগীদেরও আমাদের হাসপাতালে সেবা নেওয়ার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ দিন দিন ক্যানসার চিকিৎসায় এগিয়ে যাচ্ছে। 

default-image

জি এম ফারুক: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ থেকে রেডিওথেরাপি বিভাগে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রোগীর রেজিস্ট্রেশন চালু  হবে। ফলে যেকোনো সময়ে যেকোনো তথ্য পাওয়া যাবে। বেশির ভাগ ক্যানসার হয় ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি আবার কর্মক্ষম মানুষ।একজন কর্মক্ষম মানুষের ক্যানসার হলে তার পরিবারের কয়েকজন মানুষ উপায়হীন হয়ে পড়ে। তাই ক্যানসার যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমরা যখন একটা মেশিনের কথা বলি, তখন হয়তো বলা হয়, এত দামি মেশিন কেনার মতো অর্থ নেই। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে মনে করা হয় ক্যানসারের থেকে ডায়রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ধূমপানমুক্ত করা হবে। ধূমপান বন্ধ হলে বাংলাদেশে ক্যানসার রোগী অনেক কমে যাবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।কামরুজ্জামান চৌধুরী: উন্নত বিশ্ব থেকে অনুন্নত বিশ্বের মানুষের ক্যানসার বেশি হয়। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষ। রেডিওথেরাপি সেন্টার থাকা উচিত ১৬০টি। আমাদের হয়তো আছে ১৫ থেকে ২০টি। এর অর্থ হলো, ব্যাপকসংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

default-image

আমাদের অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে। কেমো ও রেডিওথেরাপিতে উন্নতি হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের তৈরি কেমোথেরাপি দিতে দেখেছি। তিন বছর ধরে বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসায় দেশি ওষুধের ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন, তাহলে আরও জানা যাবে দেশি ওষুধ কতটা কার্যকর। ওষুধ প্রস্তুত কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ করব, তারা যেন গবেষণার জন্য অর্থ ব্যয় করে এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যবস্থা করে।

default-image

ফেরদৌস শাহ্‌রিয়ার সাইদ: স্থানীয় কবিরা​জি চিকিৎসাই দেশীয় পদ্ধতি। এ ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসা বিদেশি পদ্ধতিতে করা হয়। তাই চিকিৎসা সব সময় আন্তর্জাতিক মানের। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতির অপব্যবহার হয়, আবার এর সংশোধনও হয়। এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে।
ক্যানসার চিকিৎ​সার বিষয়ে আমার মনে হয়েছে, আমরা ডাক্তাররা পারি। পারতে হলে আমাদের বিভিন্নভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বিশ্বে কোনো নতুন তথ্য এলে সে ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসা–বিষয়ক দেশি-বিদেশি সভাগুলোয় অংশগ্রহণ করতে হবে। এভাবে নিজেকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হয়
চিকিৎসার মান এক দিনে তৈরি হয় না। সময়ের সঙ্গে মানেরও উন্নয়ন ঘটে। একজন ডাক্তার অনেক ভালো। তাঁর সহযোগীরা ভালো। কিন্তু চিকিৎসার উপকরণ না থাকলে তিনি ভালো চিকিৎসা দিতে পারবেন না। অনেকে বিদেশ থেকে ওষুধ এনে ডাক্তারদের সে ওষুধ ব্যবহার করতে বলেন, এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। ওষুধ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল একটা অন্যতম মান।  এসব মেনে চললে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো করব। 

default-image

পারভিন আক্তার বানু: অনুন্নত দেশগুলোয় নারীদের ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো ইনফেকশন। ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হলে ইনফেকশন, স্ক্রিনিং—এসবের ওপর বেশি জোর দিতে হবে।
নারীদের স্তন ক্যানসার বেশি হয়। কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে। কিছু ভাইরাস যদি প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে ক্যানসার অ্যাডভান্সড পর্যায়ে যাবে না। আর্সেনিকও একটি সমস্যা। আর্সেনিক সম্পর্কিত ক্যানসারও আমরা দেখতে পাই।
খাদ্যে ভেজালের দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ওষুধ প্রস্তুত কোম্পানিগুলো যেন ওষুধের মানের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ছাড় না দেয়। অপূর্ণ চিকিৎসা ক্যানসারকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। অামাদের এখনো অনেক বিষয় কাজ করতে হবে।

default-image

মো. মোফাজ্জেল হোসেন: ক্যানসার রোগীর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। একজন রোগী প্রথম চিকিৎসা নিতে এলে কেন্দ্রীয়ভাবে কোথাও তার পরিচয়পত্রটি জমা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে রোগীর সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।
কয়েকটি কারণে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্যানসার হয়ে থাকে। যেমন: ধূমপান, অ্যালকোহল, ডায়েট,​ ইনফেকশন—এসব বিষয়ে সতর্ক থাকলে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ  সম্ভব। গোলটেবিলের মতো এই আলোচনা চালিয়ে নিতে হবে। মানুষকে সচেতন করাই বড় কাজ। আমাদের দেশের মাত্র ২০ শতাংশ ক্যানসার রোগীর সামর্থ্য আছে চিকিৎসা করার। অন্যদের চিকিৎসা করার পূর্ণ সামর্থ্য নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের অনেক বিষয়ে ছাড় দিতে হয়। দেশি ওষুধের দাম আরও কিছুটা কমানো যায় কি না, সেটিও কোম্পানিগুলোকে ভেবে দেখতে হবে।

default-image

মো. এহ্‌তেশামুল হক: প্রাইভেট হাসপাতাল ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে অবদান রাখছে। আজ স্কয়ার, ইউনাইটেড, ডেলটা, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, খাজা ইউনুস আলী হাসপাতাল—এগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্যানসার চিকিৎসায় অবদান রাখছে। গত বছর আমরা ক্যানসা​ের আক্রান্ত এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছি।
চিকিৎসাসেবার এ সাফল্যকে ধরে রাখতে হলে একটা ভালো পরিকল্পনা করতে হবে। কম সুদে ব্যাংকঋণ ও মেশিন আনার জন্য কর রেয়াতের ব্যবস্থা থাকলে কোম্পানিগুলো কম মূল্যে ওষুধ দিতে পারবে। আমরা ১০ শতাংশ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিই। সরকারি সহযোগিতা বাড়লে আমাদের সেবার আওতা আরও বাড়বে।

default-image

এম এম শরিফুল আলম: ২০০৮ সাল থেকে ক্যানসার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। সারা বিশ্বে ক্যানসারের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। যেমন ২০০৮ সালে পৃথিবীতে নতুন ক্যানসা​ের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। ২০১২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালে বিশ্বে নতুন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা হবে ১ কোটি ৫০ লাখ।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য দুটি টেলি ও একটি ব্রাকিথেরাপি মেশিন প্রয়োজন। এই হিসাবে শুধু ঢাকায় রেডিওথেরাপি মেশিন প্রয়োজন হবে ২০টি আর সারা দেশের জন্য দরকার ৩০০টি।
আমেরিকান ও অন্যান্য ক্যানসার সোসাইটি ক্যানসারের ১১টি সতর্কবার্তা চিহ্নিত করেছে। যেমন: সহজে সারছে না এমন কোনো ক্ষত, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, স্তনে ব্যথা অনুভব, গিলতে অসুবিধা, হজমে অনিয়ম, মলত্যাগে অসুবিধা, খুসখুসে কাশি, ভাঙা কণ্ঠস্বর, মুখে ঘা–জাতীয় কিছু হওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও জ্বর, পেটে ব্যথা ইত্যাদি। এগুলো হলেই যে ক্যানসার হবে, এমন না। তবে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

default-image

পারভিন শাহিদা আখতার: দেশে ভয়ানকভাবে স্তন ও ফুসফুসের ক্যানসার বেড়ে যাচ্ছে। আমরা যতই বলি না কেন চিকিৎ​সার ব্যয় কমেছে, দরিদ্র মানুষের পক্ষে ব্যয়ভার বহন করা অনেক কষ্টকর। ক্যানসার একটি সমন্বিত চিকিৎসা। সার্জারি, কেমো ও রেডিওথেরাপি কখন, কোনটি, কীভাবে করতে হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অপারেশনের ছয় মাস পর কেমো নিলে ফলপ্রসূ হবে না।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে কেমো, ব্যথানাশক মরফিন, ইনজেকশন—সবই ফ্রি। শুধু ভালো চিকিৎসক থাকলেই হবে না; এর সঙ্গে প্যারামেডিক, নার্স ও অন্যান্য সহযোগী মানবসম্পদ থাকতে হবে। কোনো ওষুধ ৮ ডিগ্রি, কোনোটি ২৫ ডিগ্রি সে​লসিয়াস তাপমাত্রায়, আবার কখনো সূর্যের আলোর বাইরে রাখতে হয়। এ জন্য ভালো ফার্মাসিস্টের প্রয়োজন হয়।
যাঁরা ওষুধ লিখবেন, তাঁদের দক্ষতা থাকতে হয়। ওষুধ প্রয়োগের আগে প্রস্তুত করতে হয়। ওষুধ প্রস্তুত, কেমো ও রেডিওথেরাপি—এ কাজগুলো অনকোলজিস্টরা করেন। দেশে অনকোলজিস্টদের স্বল্পতা রয়েছে। অনকো​লজিস্ট বাড়াতে হবে।

default-image

মোখলেস উদ্দিন: দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা যা বলা হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার থেকে অনেক বেশি হবে। ডব্লিউএইচওর হিসাবমতে, প্রতি ১০০ জন রোগীর জন্য একজন করে অনকোলজিস্ট থাকা দরকার।  দেশে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ ক্যানসার রোগীর জন্য একজন অনকোলজিস্ট। ভারতে ৬৬৪ ও পাকিস্তানে ১ হাজার ৪০০ জনের জন্য একজন অনকোলজিস্ট।
আমাদের সার্জিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজিস্টরা প্রায় বিশ্বমানের। আরও কিছু প্রশিক্ষণ পেলে তাঁরা অনেক ভালো করবেন। দেশে মেডিকেল অনকোলজিস্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনকোলজিস্ট তৈরি ছাড়া আমরা বিশ্বের সঙ্গে চলতে পারব না। তবে আমরা সামনে এগোচ্ছি।

default-image

সারোয়ার আলম:  আমাদের ৩০০টি লিনাক মেশিনের প্রয়োজন। আছে মাত্র ১৪টি। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আমাদের ১৫০টি কেন্দ্রের দরকার। আছে মাত্র ১৮টি। ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও এগিয়েছে। তারা আমাদের দুই হাজার টাকার ওষুধ ৩০০ টাকায় দিচ্ছে। আমরা কল্পনা করতে পারিনি দেড় লাখ টাকার একটা রিটুক্সিম্যাব মাত্র ৬০ হাজার টাকায় দিতে পারব।
বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ রোগীরাও এখন ওষুধ কিনতে পারছে। অধিকাংশ রোগীই আসে যখন বেশি মাত্রায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। তাদের জন্য প্রয়োজন কেমোথেরাপি ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার। প্রায় সব ক্যানসার হাসপাতালেই এ সেবার ব্যবস্থা আছে। বঙ্গবন্ধুতে মেডিকেল অনকোলজির কাজ হয়। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল অনকোলজি বিভাগ খোলা হয়েছে। তবে নতুন যেসব মেডিকেল কলেজ হবে, পুরোনো যেসব মেডিকেল কলেজ আছে, সেসব জায়গায় অনকোলজি বিভাগ খোলা প্রয়োজন। বাজারে নামে-বেনামে কিছু বাজে ওষুধ আছে, এগুলো প্রতিরোধ করতে হবে। ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য একটা পরিকল্পনা করে তা কার্যকর করা প্রয়োজন।

default-image

মোস্তাফিজুর রহমান:  সত্তরের দশকে প্রায় সব ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন ১১৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হয়। নিজস্ব চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশে তৈরি হয়। ক্যানসার প্রতিরোধের ৮০ শতাংশ ওষুধ এখন দেশীয় কোম্পানিগুলো উৎপাদন করছে। বীকনসহ অন্য কোম্পানিগুলো ওষুধ উৎপাদনের প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য বিষয় আমাদের দেখাতে পারে। স্থানীয়ভাবে ক্যানসারের ওষুধের বড় বাজার রয়েছে।
আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ওষুধ প্রস্তুত হচ্ছে কি না, সেটা দেখা। নতুন যেকোনো ওষুধ উৎপাদন করা হলে আমরা সে ওষুধের মান পরীক্ষা করি। বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করি। যেকোনো ওষুধ কার্যকর ও মানসম্মত না হলে এর উৎপাদন বন্ধ করে দিই। প্রয়োজনে কোম্পানির সনদ বাতিল করি। ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধের জন্য ডাক্তাররা ভূমিকা নেবেন।  কোনো ওষুধের গায়ে ড্রাগ রেজিস্ট্রেশন নম্বর না থাকলে সেটা হবে অননুমোদিত ওষুধ। ডাক্তাররা এ ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেবেন না। ইদানীং অনেক হাসপাতাল পরিদর্শন করে মেড ইন ইন্ডিয়া লেখা ক্যানসারের অনেক ওষুধ ধরেছি। এটা ইন্ডিয়ার তৈরি কি না, এর মধ্যে আদৌ ক্যানসার–প্রতিরোধী কোনো উপাদান আছে কি না, সেটা কেউ জানে না। আমরা একটা অ্যাপ করছি। এর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন কোনো ওষুধ সঠিক কি না। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে নিশ্চয়ই চিকিৎসাসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

default-image

মোহাম্মদ নাসিম: প্রতিদিন স্বাস্থ্য পাতা পড়ে অনেক কিছু জানি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দিয়েছি, মেডিকেলে যারা পড়বে, ধূমপান না করার জন্য তাদের প্রত্যয়ন দিতে হবে।
ডাক্তারদেরও অনুরোধ করেছি ধূমপান না করার জন্য। আগে নিজেকে সংশোধন না করলে অন্যকে বলা যায় না। ডাক্তার, মেডিকেল শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সবাইকে ধূমপানের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে হবে।
ক্যানসার একটা মরণব্যাধি, জনপ্রিয় লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদের মতো মানুষকেও আমরা বাঁচাতে পারিনি। নারীদের স্তন ক্যানসার বেশি হয়। অতি আধুনিকতার জন্য অনেক নারী তাঁর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না। তাঁরা বড় রকমের ভুল করেন। এর জন্য ওই সন্তানদের পরবর্তীকালে ক্যানসারও হতে পারে। শুধু ঢাকায় এসব সভা করলে হবে না। ১৬ কোটি মানুষের দেশ। গ্রামগঞ্জে অনেক মানুষ এখনো দরিদ্র। তাদের মধ্যে প্রচার করতে হবে। সরকার পর্যায়ক্রমে জেলা হাসপাতালগুলোয় ক্যানসার ইউনিট চালু করবে।

ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। বীকনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলব, আপনারা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এ দেশের মানুষ দরিদ্র। ওষুধের দাম যতটুকু না রাখলে হয় না, কেবল সেটুকু রাখেন। দেশে এখন অনেক বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আছে। ধনী মানুষ আছেন। কোনো দিন কেউ বললেন না যে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য এই মেশিনটা আমি দিলাম।

জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎ​সার সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টি আমাদের ভাবনায় থাকবে। আলোচনায় অনেক বিষয় এসেছে, এগুলো বিবেচনায় নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

আব্দুল কাইয়ুম: ধূমপানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতে দেশীয় কোম্পানিগুলো সাফল্য অর্জন করছে। মানুষ এখন কম দামে ওষুধ পাচ্ছে। তবে দেশীয় ওষুধ ও এর মানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যাঁরা অংশ নিলেন 

মোহাম্মদ নাসিম          : সাংসদ ও মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়

মোস্তাফিজুর রহমান       : মেজর জেনারেল, মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

মোয়াররফ হোসেন       : অধ্যাপক, পরিচালক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট  ও হাসপাতাল

মো. এবাদুল করিম       : ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড 

এস কে গোলাম মোস্তফা  : অধ্যাপক ​ও বি​ভাগীয় প্রধান, রেডিয়েশন অনকোলজি, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

মো. হাফিজুর রহমান আনসারী       :           সাবেক পরিচালক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

সারোয়ার আলম          : চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধান, অনকোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

আজিজুল ইসলাম         : বিভাগীয় প্রধান, মেডিকেল অনকোলজি, সিএমএইচ

জি এম ফারুক            : বিভাগীয় প্রধান, রেডিও থেরাপি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

মোখলেস উদ্দিন          : অধ্যাপক, ক্যানসার বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও  হাসপাতাল

কামরুজ্জামান চৌধুরী     : অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও  হাসপাতাল

পারভিন শাহিদা আখতার  : অধ্যাপক ​ও বি​ভাগীয় প্রধান, মেডিকেল অনকোলজি, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

এম এম শরিফুল আলম : অধ্যাপক, অনকোলজি, এনাম মেডিকেল কলেজ ও  হাসপাতাল

ফেরদৌস শাহ্‌রিয়ার সাইদ   :      কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অনকোলজি, ইউনাইটেড  হাসপাতাল

মো. মোফাজ্জেল হোসেন : চিফ কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অনকোলজি, ল্যাবএইড হাসপাতাল

পারভিন আক্তার বানু      : চিফ কনসালট্যান্ট, ডেলটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

মো. এহ্‌তেশামুল হক     : অধ্যাপক ও পরিচালক, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল 

হাজি মোহাম্মদ আলি      :  ক্যানসা​ের আক্রান্ত ব্যক্তি

সঞ্চালক

আব্দুল কাইয়ুম             : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন