default-image

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভিয়েরা জুনিয়র বুধবার টঙ্গীতে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছেন। রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সিমিন রহমান।
কারখানার ফারাজ আইয়াজ হোসেন ভবনে বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত। এ সময় তাঁকে সেখানে ব্যবহৃত বিশ্বমানের প্রযুক্তি এবং উৎপাদনব্যবস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনের সময় ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সমমানের প্ল্যান্ট এ কারখানায় দেখে খুশি হন। তিনি বলেন, ‘অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা এবং এর নিবেদিত কর্মীরা বাংলাদেশে এসকেএফকে একটি বিশ্বমানের কোম্পানিতে পরিণত করেছেন। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় একটি খাত হলো ওষুধশিল্প এবং ব্রাজিল ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে জেনেরিক ওষুধপণ্য রপ্তানিতে এসকেএফের সব ধরনের সম্ভাবনা আছে।’ কোভিড ব্যবস্থাপনায় এসকেএফের নেওয়া সব পদক্ষেপ ও দূরদর্শী লক্ষ্য, বিশেষ করে রেমডেসিভির উৎপাদনের বিষয়টির ব্যাপক প্রশংসা করেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত।

সিমিন রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এক অভাবিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ এবং পুরো বিশ্ব। কোভিড-১৯-এর চিকিৎসা বাংলাদেশের মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংকটময় সময়ে জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেব।’ সিমিন রহমান আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের জীবাণুমুক্ত পণ্য উৎপাদনেই এসকেএফের মূল দক্ষতা নিহিত। করোনা মহামারির সঙিন সময়ে, যখন কোভিড রোগীদের জন্য কোনো কার্যকর ওষুধ ছিল না, তখন এসকেএফের আনা রেমডেসিভির ইনজেকশন শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রোগীদের সেবায় ব্যবহৃত হয়েছে।’
এসকেএফের কারখানা বহু বৈশ্বিক ও নামকরা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে আছে ইউকে এমএইচআরএ, ইইউ জিএমপি এবং টিজিএ অস্ট্রেলিয়া।

বিজ্ঞাপন

অন্যতম এশীয় কোম্পানি হিসেবে এসকেএফ সম্প্রতি ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (ইইউ জিএমপি) শীর্ষক অনুমোদন পেয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের প্রথম কারখানা হিসেবে এসকেএফ এ অনুমোদন পেয়েছে।
৩০ বছর ধরে মানসম্পন্ন ওষুধপণ্য উৎপাদন করে আসছে এসকেএফ। বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে এই কোম্পানি এখন ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়ার ৫৪টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।

মন্তব্য পড়ুন 0