এ সময় মোমেনের সমর্থনে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। বণিক সভার সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। ২০১৬ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২২–এ তা ১৮ বিলিয়নে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক সম্পর্কও চমৎকার। দুই দেশ একে–অপরের প্রতি বিশ্বস্ত।

নির্ভরশীল। এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপনাদের ওপর। আপনারা বিনিয়োগে কতটা উৎসুক হবেন তার ওপর। মনে রাখবেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই যুবা প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর, যা যেকোনো দেশের শক্তি।’ দোরাইস্বামীর শেষ বাক্যটি এ রকম, ‘ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পরবর্তী ঠিকানা হোক বাংলাদেশ।’

এই প্রথম সিআইআইয়ের সহযোগিতায় এভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হলো। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান ও সিআইআইয়ের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক চেয়ারম্যান বিনায়ক চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা কর্মঠ ও সক্ষমতা প্রমাণে উদ্যোগী। আমরা এদের হাতে কাজ দিতে চাই। সে জন্য বিনিয়োগ চাই। দেশে পানিসম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।

কারও সঙ্গে বৈরিতা নেই। দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল। ধর্মীয় সহাবস্থানও সুন্দর। সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন বিপুল। ভারতের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক এলাকা নির্ধারিত রয়েছে। আপনারা বিনিয়োগ করুন। উৎপাদন করুন। উৎপাদিত পণ্য বাংলাদেশেই বিক্রি করুন। অন্যত্র বাজার খুঁজতে হবে না।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আপনারা যা কিছু উৎপাদন করবেন তার বাজার দেশেই রয়েছে। ৫০ বছর আগের ‘বাস্কেট কেস’ বাংলাদেশের অগ্রগতি এমনই যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০৩৬ সালের মধ্যে দেশটা বিশ্বের ২৪তম অর্থনীতি হতে চলেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘টাটা মোটর্স, হিরো বাংলাদেশের দিকে নজর দিয়েছে। আমরা চাই, অন্যরাও যেন পিছিয়ে না থাকেন।’

বিনিয়োগের এই আহ্বান আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে পদ্মা সেতু নির্মাণে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোমেন বলেন, এই একটি প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দেড় থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে। শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশ্ন আসতে পারে বিনিয়োগের জন্য কেন বাংলাদেশে যাবেন? প্রথম কারণ যোগাযোগব্যবস্থা। কানেক্টিভিটি ইজ প্রোডাক্টিভিটি। রেল, সড়ক, আকাশ, নদী, সাগর সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা চালু রয়েছে। আগামী দিনে দুই দেশের অভিন্ন সব নদীপথের যোগাযোগ চালু করার লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ, সস্তা শ্রম। তৃতীয় কারণ, শ্রমিকেরা দ্রুত শিখতে আগ্রহী। চতুর্থ কারণ, পরিবহন খরচ কম। তাঁর কথায়, এটা দুই দেশের পক্ষেই ‘উইন উইন’ অবস্থা। কোন কোন ক্ষেত্রে ভারতীয় উদ্যোগপতিরা আগ্রহী হতে পারেন সেই তালিকাও তিনি দেন। বলেন, অটোমোবাইল, সিরামিক, সিমেন্ট, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, রেলসহ মেধাভিত্তিক (নলেজ বেজড) শিল্পের জন্য অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিআইআইয়ের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক চেয়ারম্যান বিনায়ক চট্টোপাধ্যায় জানান, বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইওদের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন