default-image

বঙ্গোপসাগর ঘিরে এ অঞ্চলে সংযুক্তির কেন্দ্র বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল। তাই বাংলাদেশকে ঘিরে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বা সংযুক্তির প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা শুধু বাংলাদেশ নয়, এ অঞ্চলের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ঢাকায় জাপান দূতাবাসের সহযোগিতায় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) আয়োজিত ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সংযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে বঙ্গোপসাগর’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এ কথা বলেন।

দুই দিনের এ সম্মেলন গতকাল রোববার আইইউবি মিলনায়তনে শুরু হয়। এটি আয়োজনের সঙ্গে আছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন, বিমসটেক, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অনেক দেশের অস্তিত্ব, সমৃদ্ধি আর নিরাপত্তার জন্য ভারত মহাসাগর বা বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হয়ে থাকবে। ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের ধারণা’ বাংলাদেশকে সংযুক্তির পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশ, সামুদ্রিক পরিবেশে সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে বেশ কটি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। এগুলো শেষ হলে ভূরাজনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সুফলও কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ।
ইতো নাওকি, ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত

আব্দুল মোমেন আরও বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের স্বার্থে বাংলাদেশ আঞ্চলিক জোট ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওরা) আওতায় দ্বীপরাষ্ট্র ও সাগর বেষ্টিত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশ সমন্বিত ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে পারে।

ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থানটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উন্নয়ন শুধু এ দেশের নয়, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, তথা সারা বিশ্বের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেশ কটি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে।

ঢাকায় জাপানের শীর্ষ এই কূটনীতিক আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন। ইতো নাওকি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের সবার অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়। তাই বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের রাখাইনের সংযুক্তির উদ্যোগকে সমর্থন করে জাপান। এটি সম্ভব হলে তা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়ক হবে। এতে দুই দেশের মানুষ সুফল পাবে।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ টেনে ইতো নাওকি বাংলাদেশ ও ভারতের সংযুক্তির প্রকল্পে জাপানের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সম্প্রতি ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে সড়কপথে বাংলাদেশ ও ভারতের সংযুক্তির উদ্যোগকে স্বাগত জানান। ওই সেতুর সড়ক প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।

সংযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নয়, নীতিমালা ঠিক করা, পণ্য ও মানুষের অবাধ চলাচলের মতো বিষয়গুলোতেও জোর দিতে হবে।
বিক্রম দোরাইস্বামী, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার

সংযুক্তিকে ভূ-অর্থনৈতিক ও ব্যাপকতর সংযুক্তির প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনার পক্ষে মত দিয়ে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, এককভাবে কারও পক্ষে এগিয়ে চলা সম্ভব নয়। মৈত্রী সেতুর সুফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগরতলা থেকে কলকাতা পৌঁছাতে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। অথচ ত্রিপুরার সাবরুম থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৯০ কিলোমিটারের মতো। কাজেই সংযুক্তি, বাণিজ্য—এ বিষয়গুলো পুরো উপ-অঞ্চলের মূল চালিকা শক্তি। এটি ভারতের উত্তর প্রদেশ, উত্তর–পূর্বাঞ্চল, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের জন্য ব্যাপকতর সুযোগ তৈরি করবে।

বিক্রম দোরাইস্বামী আরও বলেন, সংযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নয়, নীতিমালা ঠিক করা, পণ্য ও মানুষের অবাধ চলাচলের মতো বিষয়গুলোতেও জোর দিতে হবে। কারণ, সংযুক্তির বিষয়টি সামনে আনতে গিয়ে শুধু সড়ক, রেল ও বন্দরের অবকাঠামোতে সীমিত থাকাটা ঠিক হবে না। হিমালয়ের পাদদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধাকে বিবেচনায় নিয়ে ভারত, ভুটান, নেপাল ও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংযুক্তিকে ব্যাপকতর সুযোগ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

আইইউবির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের এদেশীয় পরিচালক মার্সি টেম্বন, এডিবির এদেশীয় পরিচালক মনমোহন প্রকাশ, বিমসটেকের মহাসচিব তেনজিন লেকফেল, আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক তানভীর হাসান ও আইইউবির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মিলান পাগন বক্তব্য দেন।দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করলেন কূটনীতিকেরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন