বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা এবং পেট্রলবোমার আতঙ্কে বন্ধ হতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ বাস যোগাযোগ। ঢাকা-আগরতলা বাস চলাচল দিন কয়েক ধরে বন্ধ রয়েছে। কলকাতা-ঢাকা বাস চলাচল চালু রাখা নিয়ে গভীর ভাবনাচিন্তা চলছে। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং হয়ে গুয়াহাটি ও ঢাকা বাস যোগাযোগ বাণিজ্যিকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে গেছে। বাসচালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তাই বাস বন্ধ রাখার প্রধান কারণ। অন্য কারণের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বাসচালকদের অনীহা।
ঢাকা-আগরতলা বাস চলাচল কয়েক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। ত্রিপুরার পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপাতত দিন কয়েক বাস চলছে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার চলবে।’ তিনি বলেন, ‘এটা খুব একটা বড় কিছু নয়। অতীতেও এমন হয়েছে। হরতাল বা অবরোধের কারণে মাঝে মাঝেই পরিষেবা বন্ধ থেকেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছি। অবশ্য বাংলাদেশে গোলমালের কারণে যাত্রী সংখ্যাও কম হচ্ছিল। বাস চলছিল টিমটিম করে।’ আগরতলা-ঢাকা বাস যোগাযোগ চালু আছে ২০০৩ সাল থেকে।
দুই দেশের বাস যোগাযোগের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো কলকাতা-ঢাকা পথ চালু হয় ১৯৯৯ সাল থেকে। সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই এই পথে বাস চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘চালকেরা খুবই ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাচ্ছেন। এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়নি ঠিকই কিন্তু সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের চালকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের অনেকেই বাস বের করতে আপত্তি জানাচ্ছেন। কত দিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে জানি না।’ রাজ্য পরিবহন দপ্তর সূত্রে খবর, বাংলাদেশে গোলমালের দরুন বাসে যাত্রী সংখ্যাও কম হচ্ছে।
আসামের গুয়াহাটি থেকে শিলং হয়ে ঢাকা পর্যন্ত বাস চালানোর সিদ্ধান্তও আপাতত পিছিয়ে গেছে। গত ডিসেম্বরে এই পথে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল খুব ভালোভাবেই করা হয়। তখনই ঠিক হয়েছিল, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এই পথে বাস চলাচল বাণিজ্যিকভাবে শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন