বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা জানান, কক্সবাজারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো শিগগিরই এ অঞ্চলে ও তার বাইরে বিস্তার লাভ করতে পারে। এ সংকট জিইয়ে রেখে সংশ্লিষ্ট সবার অর্জন হবে কেবল শূন্যই।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, অতীতের স্থিতিস্থাপকতা থেকে দেশ শক্তি অর্জন করেছে। এখন দেশ সুযোগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত, একটি মিশন ও ভিশন নিয়ে তাকিয়ে আছে ভবিষ্যতের দিকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্জন-উন্নয়নের কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের জিডিপি ২০২১ সালে ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। নামমাত্র জিডিপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বে ৪১তম। সরকার গত এক দশকে দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ ভাগ থেকে ২০ দশমিক ৫ ভাগে কমিয়ে এনেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। মাথাপিছু আয় বেড়ে এ বছরে হয়েছে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাত গুণ বেড়ে ২০২১ সালে হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটি পরিবর্তনের অঙ্গীকার। আমাদের সরকার মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। আমাদের জনগণ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা জানান, একজন লোকও গৃহহীন থাকবে না—এ ব্যাপারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ায় গত এক দশকে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে উপযুক্ত ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারি করোনা মোকাবিলা আবার আমাদের সহনশীলতা পরীক্ষা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম কোভিড-১৯ মৃত্যুর হার আমাদের দেশে। আমরা গ্লোবাল ভ্যাকসিনে আমাদের ইক্যুইটি নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছি।’

শেখ হাসিনা জানান, সরকার মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পগুলো নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যার অনেকগুলো নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু হবে বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, এ বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের অবশ্যই ভালো, শক্তিশালী ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ অন্যতম জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। আমরা জলবায়ু অভিযোজনে বিশ্বনেতা। আমরা এখন জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি আমরা ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা বাতিল করেছি।’

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানবসম্পদ হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমাদের সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করে চলেছে। আরও দুই দশক আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা জানান, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে শিক্ষা ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। তিনি এমন একটি সমাজের কল্পনা করেন, যেখানে মেয়ে ও নারীদের প্রতি কোনো বৈষম্য থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি বজায় রেখেছে।

সাম্প্রদায়িক শক্তির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতিতে পুনর্বাসিত সাম্প্রদায়িক শক্তি এখনো আমাদের সামাজিক কাঠামোকে ব্যাহত করছে। তাদের বিষাক্ত থাবা এখন সাইবার স্পেসে ছড়িয়ে পড়েছে। এ শক্তির বিরুদ্ধে এখনো সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আমরা মনোযোগী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের পথে রয়েছি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন