পরিচয়হীন বাক্প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা প্রতিদিন সকালে পোঁটলা গুছিয়ে বসে থাকেন। আর প্রায় সারা দিনই বুক ও মাথা চাপড়িয়ে কাঁদেন। মাঝেমধ্যে লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটেন। ইশারায় মানুষজনের কাছে আকুতি জানান তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
ছিন্নমূল মানুষজন খুঁজে কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে বন্ধুসভার এক সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তির মোড় এলাকার মালপত্রহীন খোলা একটি দোকানঘরে বৃদ্ধাকে এই অবস্থায় দেখতে পান।
স্থানীয় তিন-চারজন জানান, ১৬ ডিসেম্বর থেকে এই বৃদ্ধা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেও পরিচয় উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় একজন সপ্তাহ খানেক আগে এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কিন্তু পুলিশের কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি।
গতকাল রোববার সকালে শহরের শান্তির মোড় এলাকায় গিয়ে গোছানো পোঁটলা ধরে কাঁদতে দেখা যায় ওই বৃদ্ধাকে। এক পাশের ফলের দোকানদার এনামুল হক, অন্য পাশের ওষুধের দোকানদার আকবর খান ও স্থানীয় চার-পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৬ ডিসেম্বর পৌর এলাকার নামোশংকরবাটীর কয়েকজন তরুণ ওই বৃদ্ধার পরিচয় জানার জন্য তাঁকে রিকশাভ্যানে উঠিয়ে মাইকযোগে বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালান। কোনো পরিচয় না পেয়ে তাঁরা সন্ধ্যায় তাঁকে শান্তির মোড় এলাকার একটি মসজিদের সামনে রেখে চলে যান। প্রচণ্ড শীতে কাহিল বৃদ্ধা মসজিদের বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে কাঁদতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে ওই দোকানঘরে নিয়ে খড় পেতে বিছানা করে দেন। কেউ কম্বল, কেউ খাবার দেন তিন বেলা। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন স্থানে লোক পাঠিয়ে বৃদ্ধার নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। থানায় জিডি করার পরও পুলিশ এখানে কোনো খোঁজ নিতে আসেনি। আর কয়েক দিন পরই দোকানটিতে মালপত্র উঠিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন ভাড়াটিয়া। তখন এই বৃদ্ধার আশ্রয় কোথায় হবে, এই নিয়ে চিন্তায় আছেন তাঁরা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন জানান, থানায় জিডি করার ব্যাপারটি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে বৃদ্ধাকে আশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন